চালু হওয়ার আগেই ভেঙে পড়ল কালিন্দ্রীর কাঠের সাঁকো

207

রতুয়া : চালু হওযার আগেই কালিন্দ্রী নদীর ওপর নির্মীয়মাণ কাঠের সাঁকো ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল পুখুরিযা থানার পিরপুর এলাকায়। রবিবার ভোরে সেই দৃশ্য প্রথমে পিরপুর এলাকার বাসিন্দাদের নজরে আসে। কালিন্দ্রী নদীর ওপর আড়াইডাঙ্গা-পিরপুর সংযোগকারী নির্মীয়মাণ কাঠের সাঁকোটির অনেকটা নদীর স্রোতে তলিয়ে যাওযার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয বাসিন্দারা। তবে দুর্ঘটনায হতাহতের কোনও খবর নেই। এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, সাঁকো নির্মাণে ঠিকাদার নিম্নমানের কাঠ ও অন্য সামগ্রী ব্যবহার করেছেন। এই ঘটনার তদন্ত করে উৎকৃষ্টমানের সামগ্রী দিযে সাঁকোর কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

পিরপুরে কালিন্দ্রী নদীর ওপর সাঁকোর জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন বর্তমানে রাজ্যসভার সাংসদ, জেলা তৃণমূল সভানেত্রী মৌসম নুর। এই সাঁকোর জন্য বেশির ভাগ অর্থ তিনিই নিজের সাংসদ তহবিল থেকে বরাদ্দ করেছিলেন। লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি সাঁকোর শিলান্যাস করেন। কাজও শুরু হয়। সাঁকো ভেঙে পড়ার কথা শুনে এদিন মৌসম বলেন, ‘বিষয়টি আমি এখনও জানি না। কেন মাঝপথে সাঁকো ভেঙে পড়ল তা খোঁজ নিয়ে দেখছি।’ জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সামশুল হক এদিন অবশ্য বলেন, ‘সাঁকো এখনও হস্তান্তর হযনি। ফলে ক্ষতিপূরণ ঠিকাদার সংস্থাকেই দিতে হবে।’

- Advertisement -

স্বাধীনতার পর থেকেই পিরপুরে কালিন্দ্রী নদীর ওপর সাঁকোর দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকার বাসিন্দারা। সাঁকোর ওপারে মানিকচক ব্লকের নুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। শুখা মরশুমে বিপজ্জনকভাবে বাঁশের মাচা দিযে নদী পারাপার চলে। ভরা বর্ষায় ওই মাচা তলিয়ে যায়। তখন ভরসা নৌকা। নদী এড়াতে হলে ২০ কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয ১৫টি গ্রামের মানুষকে। বাসিন্দারা তৎকালীন সাংসদ মৌসমের দ্বারস্থ হওয়ার পর এনিয়ে উদ্যোগী হন তিনি। কিন্তু কংক্রিটের ব্যযবহুল সাঁকো নির্মাণ আপাতত সম্ভব নয় জেনে সেখানে কাঠের সাঁকো তৈরির উদ্যোগ নেওযা হয়। সাংসদ তহবিল থেকে প্রথমে ২৫ ও পরে ১০ লক্ষ হিসাবে মোট ৩৫ লক্ষ টাকা দেন মৌসম। এছাড়াও দক্ষিণ মালদার সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী ১০ লক্ষ টাকা, মানিকচকের বিধাযক মোত্তাকিন আলম ও রতুযার বিধাযক সমর মুখোপাধ্যায ৫ লক্ষ করে টাকা দেন। দুদিকে কংক্রিটের গার্ডওয়াল তৈরি করে শালকাঠের ওই সাঁকো তৈরির কাজ শুরু হয। ইতিমধ্যেই সেই কাজ ৭০ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। যদিও লকডাউনের জেরে কাজ এখন বন্ধ রয়েছে। রবিবার ভোরে সাঁকোটি ভেঙে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাজি নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘নিম্নমানের কাঠ ও সামগ্রী দিযে সাঁকোর কাজ করা হচ্ছিল বলে সেটা ভেঙে পড়েছে।’ মণিরুজ্জামান নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘সাঁকো চালু হওয়ার পর এমনটা হলে বিপর্যয হতে পারত। এখন দেখছি কাঠের সাঁকোর বদলে কংক্রিটের সেতু হলেই ভালো হত। আমরা সেটাই দাবি জানাচ্ছি। বর্ষার সময় কালিন্দ্রী খরস্রোতা হযে ওঠে। ফলে পাকাপোক্ত সেতু না হলে সমস্যা থেকেই যাবে।’

রতুযা ২ ব্লকের বিডিও সোমনাথ মান্না বলেন, ‘কাঠের সাঁকোটি জেলা পরিষদের অধীনে তৈরি হচ্ছে। তবুও খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত যাতে কাজ শুরু হয়, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

ছবি- ভেঙে পড়া সাঁকো।

তথ্য ও ছবি- দেবদুলাল সাহা