করোনা রোধে মাস্ক-স্যানিটাইজার ব্যবহারের পাঠ দিতে অভিনব ফুটবল প্রদর্শনী

456

বর্ধমান: করোনা আতঙ্কে কাঁপছে ভারত সহ গোটা বিশ্ব। সেই আতঙ্কে থমকে গিয়েছে সবুজ মাঠে খেলাধুলো। তবে তারই মধ্যে ক্রীড়ামোদীরা অনেকেই যেমন স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খেলার মাঠে নেমে পড়ছেন তেমনই অনেকে বাইরেও ঘোরাফেরা করছেন। এইসবের কারণে পূর্ব বর্ধমান জেলায় উত্তরোত্ত্বর বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে মুখে মাস্ক পরা ও হাতে স্যানিটাইজার ব্যবহারে শিথিলতা না দেখানোর বার্তা দিতে রবিবার অনুর্ধ্ব ১৭ ফুটবল প্রদর্শনীর আয়োজন করল মেমারির পাল্লারোড পল্লীমঙ্গল সমিতি। তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্বাস্থ্য দপ্তর ও মেমারির সচেতন নাগরিকরা।

পাল্লারোড পল্লীমঙ্গল সমিতির মাঠে এদিন খেলতে নামে মেমারির রসুলপুরের জয়যাত্রী সংঘ, মেমারির ইচ্ছেডাঙা কোচিন সেন্টার ও পাল্লারোড পল্লীমঙ্গল সমিতির খেলোয়াড়রা। সব খেলোয়াড়ের মুখে ছিল মাস্ক এবং হাতে ছিল গ্লাভস। একইভাবে মুখে মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করে মাঠে নেমেছিলেন রেফারিরা।

- Advertisement -

তিন দলের খেলোয়াড়রা মাঠে ফুটবল খেলতে নামলেও কোনও দর্শককে এদিন মাঠে দেখা যায়নি। পল্লীমঙ্গল সমিতির কর্তারা এদিন এলাকার দর্শকদের জন্য ডিজিটাল মাধ্যমে খেলা দেখার ব্যবস্থা করেন। প্রদর্শনী এই ফুটবল ম্যাচে অংশ নিয়ে তিন দলের অধিনায়ক শুভ কিস্কু, দীপঙ্কর রুইদাস ও শুভজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মুখে মাস্ক পরা এবং হাতে স্যানিটাইজার ব্যবহারের বার্তা দেন।

প্রদর্শনী ম্যাচে ইচ্ছেডানা ক্লাব ২-০ গোলে পরাজিত করে পল্লীমঙ্গল সমিতিকে। পরে খেলায় পাল্লারোড পল্লিমঙ্গল সমিতি টাইবেকারে ২-১ গোলে রসুলপুর জয়যাত্রী সংঘকে পরাজিত করে। মাস্ক কাপ চাম্পিয়ান হয় পল্লীমঙ্গল সমিতি। স্যানিটাইজার রানার্স কাপ জয় করে জয়জাত্রী সংঘ। প্রত্যেক খেলোয়াড়ের হাতে স্যানিটাইজার, মাস্ক, গ্লাভস তুলে দেন খেলার আয়োজক ক্লাবের কর্মকর্তারা।

পাল্লারোড পল্লীমঙ্গল সমিতির সম্পাদক সন্দীপন সরকার বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলায় রাজ্য প্রশাসন লকডাউন থেকে আনলকের রাস্তায় গিয়েও ফের সাপ্তাহিক লকডাউন জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লকডাউন চলায় গত ৪-৫ মাস ধরে শিশু কিশোররা ঘরে থেকে খেলার মাঠের মুখ দেখতে পায়নি। বর্তমানে লকডাউন শিথিল হওয়ায় অনেকেই বিধিনিষেধ ভুলে স্বাস্থ্যবিধি শিকেয় তুলে বিকেল হতেই মাঠে নেমে পড়ছে। তখন তারা মুখে না পরছে মাস্ক, না ব্যবহার করছে স্যানিটাইজার। যা ভয়ের বিষয়। তাই এই করোনা আবহে সবসময় মুখে মাস্ক ব্যবহার, হাতে গ্লাভস পরা ও স্যানিটাইজার ব্যবহারের পাঠ সবাইকে দিতেই এদিন এই অভিনব ফুটবল প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল।’