নেপালে জয় আনলেন সেই সুনীল

কাঠমাণ্ডু : গল্পটা হতেই পারত পাহাড়চূড়ায় আতঙ্ক। হল না তার কারণ অবশ্য দুদলের মধ্যে অভিজ্ঞতার ফারাক। আর সেই ফারাকটুকু গড়ে দিলেন সুনীল ছেত্রী।

নেপালের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে ফের একবার পরিত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা গেল ৩৭ বছরের ভারত অধিনায়ককে। গোল করলেন এবং করালেন। সেই বহুযুদ্ধে নায়কের কাঁধে ভর করেই ২-১ গোলে নেপালকে হারাল ইগর স্টিমাকের ভারত।

- Advertisement -

প্রথম ম্যাচে জয় আসেনি। অনিরুদ্ধ থাপার গোলে মানরক্ষা হয়েছিল। প্রাপ্তি বলতে ছিল দ্বিতীয়ার্ধে ব্লু টাইগারদের উজ্জীবিত ফুটবল। রবিবার দ্বিতীয় সাক্ষাতে সেই শেষ থেকে শুরু চেয়েছিলেন স্টিমাক। কিন্তু কোথায় কী! বৃষ্টিভেজা দশরথ স্টেডিয়ামের মতোই তথৈবচ ভারতীয় দলের পারফরমেন্স। বিশেষ করে প্রথমার্ধেই তো বটেই। মাঝমাঠ থেকে একটার পর একটা আক্রমণ উঠে আসছে ভারতের ডিফেন্সে। আর তা সামলাতে হিমসিম অবস্থা প্রীতম, চিংলেনসানাদের। দেখে বোঝা দায় ফিফা র‌্যাংকিংয়ে এই নেপালের চেয়ে ৬৩ ধাপ এগিয়ে ভারত।

সেই প্রেশার কুকার থেকে দলকে বের করে আনলেন সুনীল। ৬২ মিনিটে ফারুক চৌধুরির গোলের পাস এসেছিল তাঁর মাথা ছুঁয়ে। ৮০ মিনিটে ব্যবধান বাড়ালেন নিজেই। প্রতিআক্রমণে সুনীলকে ফাঁকায় বল পেতে সাহায্য করেছিলেন অনিরুদ্ধ। নেপালের গোলরক্ষক কিরণ লিম্বুর বাধা পেরিয়ে নিজের ৭৫তম আন্তর্জাতিক গোল পেতে সমস্যা হয়নি ছেত্রীর। তারপরেও অবশ্য ব্লু টাইগার্সের রক্ষণে ঠকঠকানি কমেনি। ৮৬ মিনিটে দূরপাল্লার শটে ব্যবধান কমিয়ে ভারতের ওপর চাপ বাড়িয়েছিলেন তেজ তামাং।

কলকাতায় জাতীয় শিবির শেষে স্টিমাক জানিয়েছিলেন, দশদিনের প্রস্তুতি থেকে বাড়তি কিছু প্রত্যাশা না করাই ভালো। নেপাল সফরে তার কথার প্রতিফলন দলের খেলায়। বোঝাপড়ার অভাবের সঙ্গে ক্লান্তির ছাপ ফুটবলারদের শরীরীভাষায় স্পষ্ট। একসময় মেজাজ হারিয়ে হলুদ কার্ডও দেখলেন প্রণয়, শুভাশিসদের হেডস্যর। সবমিলিয়ে হিমালয়ে কোলে জয়টুকু বাদ দিলে স্টিমাকের খেরোর খাতায় প্রাপ্তির ভাঁড়ার শূন্য।