একদিনে এক পঞ্চায়েত এলাকায় ২১ জন করোনা আক্রান্ত

370

হরিশ্চন্দ্রপুর: জেলায় এই প্রথম কোনও একটি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় একদিনে ২১ জনের দেহে করোনা পজিটিভ খবর মিলেছে। শনিবার মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের ভালুকা গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার এই খবর চাউর হতেই গোটা এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এদিন আক্রান্তদের মধ্যে ভালুকা পুলিশ ফাঁড়ির রয়েছেন ১৪ জন কর্মী। বাকি ৭ জন ভালুকা বাজার ও সংলগ্ন এলাকার ভিনরাজ্য ফেরত পরিযায়ী শ্রমিক। এদের সকলকে হরিশ্চন্দ্রপুর আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

গত চব্বিশঘন্টায় একসঙ্গে ভালুকা পুলিশ ফাঁড়ির ১৪ জন কর্মীর করোনা পজিটিভের খবর জানাজানি হতে উদ্বেগে রয়েছেন পুলিশ কর্তারা। আক্রান্তদের মধ্যে ২ জন পুলিশ অফিসার, ১১ জন সিভিক ভলান্টিয়ার্স ও একজন গাড়ির চালক রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। করোনা পজিটিভ আক্রান্ত রোগীদের সকলকে হরিশ্চন্দ্রপুর আইটিআই কলেজ আইসোলেশন সেন্টারে রাখা হবে। এদিকে ১৪ জন আক্রান্তের খবর চাউর হতেই অনান্যদিনের মতো ফাঁড়ির সামনে লোকজনের ভিড় জমতে দেখা যায় নি। শুনশান ছিল ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকা।

- Advertisement -

এদিকে, জেলাজুড়ে প্রতিনিয়ত করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর বাড়তে থাকায় হেলদোল নেই জেলাবাসীর। জেলার বিভিন্ন ব্লকের পাশাপাশি হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের ভালুকা এলাকাতেও একই ছবি ধরা পড়েছে। হাট,বাজার ,রেশন দোকান ,ব্যাঙ্ক ,হাসপাতাল ,চায়ের দোকান ও মদের দোকানগুলিতেও প্রচন্ড ভিড়। সামাজিক বিধি না মেনে মাস্ক ছাড়াই আড্ডার আসর জমে উঠছে এই সমস্ত দোকানগুলিতে। পুলিশ- প্রশাসনের তরফে এলাকাবাসীদের নিয়ে বারবার করোনা সংক্রমণ রুখতে সচেতনতার প্রচার চালানো হলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি এক শ্রেণীর মানুষদের মধ্যে। তারা দলবেঁধে যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যার ফলে এলাকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

শনিবার ভালুকা পুলিশ ফাঁড়ির সিভিক সহ ১৪ জন পুলিশ কর্মীর করোনা আক্রান্তের খবর আসতেই পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। ওই পুলিশ কর্মীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। আক্রান্ত পুলিশ কর্মীদের সংস্পর্শে আসা সকল ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে লালার নমুনা পরীক্ষা করানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

তবে ভালুকা পুলিশ ফাঁড়ির যে সমস্ত কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন তাঁরা সকলে করোনা রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে খবর। কারণ, ভালুকা, দৌলতনগর গ্রামপঞ্চায়েতের আক্রান্ত করোনা রোগীদের এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে খুঁজে বের করে তাঁদের গাড়িতে করে হরিশ্চন্দ্রপুর আইসোলেশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার কাজ করতেন এঁরা।

এদিকে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পর ভালুকা পুলিশ ফাঁড়ির কর্মীরা আক্রান্ত হওয়ায় ফাঁড়ির কাজকর্ম অনেকটাই ব্যাহত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও পুলিশের দাবি, কাজে কোনও প্রকার খামতি দেখা দেবে না।

চাঁচল মহকুমার পুলিশ আধিকারিক সজল কান্তি বিশ্বাস বলেন, “ভালুকা পুলিশ ফাঁড়ির আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশ সিভিক ভলান্টিয়ার্স। মাত্র দুইজন অফিসার আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের হরিশ্চন্দ্রপুর আইসোলেশন সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে। ফাঁড়ির কাজকর্মে তেমন কোনও প্রভাব পড়বে না । তবুও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকাবাসীকে সামাজিক বিধিনিষেধ মেনে মুখে মাস্ক ব্যবহার করে বাইরে বেরোনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।