টিফিনে নিষিদ্ধ বাইরের খাবার, মনখারাপ ফুচকা বিক্রেতাদের

130

প্রসেনজিৎ সাহা, দিনহাটা: টিফিন মানেই খেলার মাঠে হুল্লোর ও গেটের বাইরে থাকা দোকানে খাবারের স্বাদ নেওয়া। এটাই কমবেশি সব বিদ্যালয়ের চেনা ছবি। কিন্তু করোনা ভাইরাসের দাপটে গতবছর মার্চ মাস থেকে বন্ধ রয়েছে সমস্ত স্কুল কলেজ। তবে আগামিকাল থেকে রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশ অনুসারে খুলতে চলেছে রাজ্যের সমস্ত উচ্চবিদ্যালয়গুলি। তবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে স্পষ্ট নির্দেশিকা দিয়েছে তাঁরা। এদের মধ্যে অন্যতম স্কুলের গেটের বাইরে থাকা আচার, ফুচকা, পাঁচমিশালি মতো বাইরের খাবার একেবারে নিষিদ্ধ। আর এই নির্দেশিকাতেই বিপাকে পড়েছে মহকুমার শতাধিক ফুচকা, আচার বিক্রেতারা।

করোনার কারণে দীর্ঘ ১১ মাস থেকে বন্ধ রয়েছে রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি। আর এরফলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে দোকান নিয়ে বসা ফুচকা,  আচার বিক্রেতারা এমনিতেই সমস্যায় পড়েছিলেন। তবে তাদের আশা ছিল নতুন বছরে অন্তত স্কুলগুলি খুললে তাদের দূর্দশা কিছুটা হলেও ঘুঁচবে। কিন্তু বুধবার স্কুল খুললেও শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশ অনুসারে ছাত্রছাত্রীরা টিফিন সময়ে বিদ্যালয়ের গেটের বাইরে থাকা দোকানের খাবার খেতে পারবে না। আর এরফলে স্কুল খুললেও মনখারাপ ফুচকা ও আচার বিক্রেতাদের।

- Advertisement -

এদিন দিনহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটের কাছেই ফুচকার গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন গোপীনাথ রায়। তাঁর কথায় সারাদিন ঘুরে ঘুরে ফুচকা বিক্রি করার চাইতে শহরের বিদ্যালয়গুলির সামনে দাঁড়িয়ে ফুচকা বিক্রি করা অনেকটাই লাভজনক। কিন্তু শিক্ষা দপ্তর নির্দেশিকায় তাদের দোকানে বিক্রি করা খাবার পুরোপুরি বন্ধ। আর এরফলে তাদের অবস্থার আর উন্নতি হল না। শহরের বিভিন্ন স্কুলে ঘুরে ঘুরে পাঁচমিশালি, আচারের মত মুখোরোচক খাবার বিক্রি করেন শ্যামল রায়। এদিন তাঁর গলাতেও হতাশার সুর, তিনি জানান ভেবেছিলাম স্কুল খুলে গেলে তাদের সমস্যা কিছুটা মিটবে। কিন্তু সে আর হল কোথায়?

বিক্রেতাদের পাশাপাশি আক্ষেপের সুর শোনা গেল ছাত্র ছাত্রীদের গলাতেও। নবম শ্রেণির ছাত্র সৌগত সাহার কথায় বিদ্যালয়ে গেটের বাইরে বন্ধুরা সকলে মিলে ফুচকা খাওয়ার আনন্দটাই আলাদা। স্বাস্থ্যবিধির কারণে শুনছি বাইরের খাবার খাওয়া যাবে না, এরফলে সেই আনন্দ যে মিস করব তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।