মেয়াদ শেষেও শিলিগুড়িতে পার্কিংয়ের নামে তোলাবাজি

শিলিগুড়ি : পুরোনো মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন টেন্ডার ডাকা হয়নি। তা সত্ত্বেও শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে জোর করে পার্কিং ফি তুলছে একদল ব্যক্তি। শিলিগুড়ি পুরনিগমের নাম করে টাকা চাইছে তারা। কোথাও পুরোনো স্লিপ দিয়ে কোথাও আবার স্লিপ ছাড়াই পার্কিং ফি নেওয়া হচ্ছে। কেউ টাকা দিতে না চাইলে, তাঁর সঙ্গে বচসা শুরু করে দিচ্ছে ওই ব্যক্তিরা। শহরের যেসব এলাকায় পার্কিংয়ে টেন্ডার হয়নি, সেখানে কেউ টাকা তুললে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের কর্তারা। কারও থেকে মৌখিক অভিযোগ পেলেও ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিল করে পুলিশে অভিযোগ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন পুরনিগমের পার্কিং বিভাগের দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক বোর্ডের সদস্য কমল আগরওয়াল। তিনি বলেন, যেখানে পার্কিং নেই সেখানে টাকা নেওয়া যাবে না। মৌখিক অভিযোগ আসলেও লাইসেন্স বাতিল করে দেব। সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিষয়টি মানুষকে জানানো হবে।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের বাম বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শহরের কিছু এলাকায় পার্কিংয়ে মেয়াদ শেষ হয়েছে। সেই সমস্ত এলাকায় এখনও নতুন করে কোনও টেন্ডার হয়নি। ফলে সেখান থেকে কেউ কোনওভাবেই পার্কিংয়ে ফি নিতে পারে না। কিন্তু শহরের কিছু এলাকায় যেখানে টেন্ডার শেষ হয়েছে সেখানে অবৈধভাবে বলপূর্বক পার্কিং ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, কাউকে পুরোনো স্লিপ দেওয়া হচ্ছে আবার কোথাও কিছুই দেওয়া হচ্ছে না। এভাবে প্রতিদিন পার্কিং ফির নাম করে হাজার হাজার টাকা তোলাবাজি হচ্ছে শহরে।

- Advertisement -

এর জেরে আখেরে ক্ষতি হচ্ছে শিলিগুড়ি পুরনিগমের। পুরনিগম সূত্রে খবর, রোড স্টেশন মোড় থেকে সেবক মোড় রাস্তার দুই ধারে, সেবক মোড় থেকে গুরুদোয়ারা, গুরুদোয়ারা থেকে পানিট্যাঙ্কি মোড়, পানিট্যাঙ্কি মোড় থেকে সেবক রোডের একটি সিনেমাহল পর্যন্ত রাস্তার দুধার, বর্ধমান রোডের একটি শপিং মলের সামনের অংশ, থানা মোড় থেকে জলপাই মোড়ের বাম দিকের অংশ, বিধান রোডের একটি হোটেল থেকে পানিট্যাঙ্কি মোড়, মহানন্দা সেতুর শেষ থেকে ডঃ বি আর আম্বেদকরের মূর্তি সহ আরও বেশ কয়েকটি এলাকায় পার্কিংয়ে কোনও টেন্ডার করা হয়নি।

ফলে ওই এলাকাগুলিতে কোনওভাবে পার্কিংয়ে জন্যে টাকা নেওয়া যাবে না বলে পুরনিগমের তরফে জানানো হয়েছে। কিন্তু এরপরেও বর্ধমান রোডের শপিং মলের সামনে, সেবক রোডের কয়েকটি জায়গায় পার্কিং ফি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। অবিলম্বে বিষয়টি বন্ধ করার দাবি উঠেছে। তাই সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞাপন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিছে পুরনিগম কর্তপক্ষ। সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিষয়টি সাধারণ মানুষকে জানিয়ে দেওয়া হবে। কোথায় কোথায় টাকা দিতে হবে আর কোথায় দিতে হবে না তার তালিকা দিয়ে দেওয়া হবে বিজ্ঞাপনে। এতে সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে বলে মনে করছেন পুরকর্তারা।