বিদেশি মদ বেঝাই ৮টি গাড়ি আটক

387

দীপেন ঢাং ও রূপেশ খাঁ, বাঁকুড়া: লকডাউনের কারণে সারা দেশে যখন মদ বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ ঠিক সেই সময় বাঁকুড়ায় দেখা গেল উলটপুরাণ। সোমবার গভীর রাতে বাঁকুড়া শহর লাগোয়া ভাদুল গ্রাম সংলগ্ন আবগারি দপ্তরের গোডাউন থেকে ১৫টি গাড়ি বিদেশি মদ পাচার হচ্ছিল বলে অভিযোগ।

স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে মদ বোঝাই গাড়িগুলিকে ধরে ফেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাড়ির কাঁচে ‘সবজি গাড়ি’ লেখা স্টিকার, কোনোটাতে ওষুধ সাপ্লাই লেখা স্টিকার ছিল। কয়েকটি গাড়ি বেরিয়ে গেলেও ৮টি গাড়ি আটক করে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। গাড়িগুলি থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার হয়। গাড়িগুলিকে আটক করে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত চলছে।

- Advertisement -

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী বলেন, ‘রাতে আমার পাশ দিয়ে গাড়ি যাচ্ছিল। গতি মন্থর থাকায় আমার নজর গাড়ির ভিতরে দিতেই দেখি কয়েক বাক্স মদের বোতল। চালক ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। আমি তখন গ্রামের আরও লোকজনকে ডাকি। দেখি গোডাউন থেকে লাইন দিয়ে গাড়িগুলি বের হচ্ছে। আমরা সেগুলি আটক করে পুলিশে খবর দিই।’

আরও পড়ুন: অসুস্থ হয়ে মুম্বইয়ের হাসপাতালে ভর্তি ইরফান

স্থানীয়রা আরও জানান, গোডাউন থেকে মদ বের করার সঙ্গে বড় চক্র জড়িত না থাকলে গাড়ি চালকরা এভাবে রাতের অন্ধকারে গাড়িতে সবজি বা মেডিসিন স্টিকার লাগিয়ে দিতে পারতেন না।

একটি গাড়িতে সিমলাপাল ব্লকের পার্শ্বলা এলাকার এক মদ ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি নিয়েই মদ নিয়ে যাচ্ছিলাম।’ আরেক মদ ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাগজপত্র নিয়ে মদ নিয়ে যাচ্ছিলাম।’ কীভাবে বিক্রি করবেন তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, হোম ডেলিভারি করে বিক্রি করা হবে।

এই বিষয়ে সিপিএমের বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী বলেন, ‘কয়লা, বালি, পাথর, গ্যাস প্রভৃতি খনিজ সম্পদে ভরপুর বাঁকুড়া জেলা। সঠিক ব্যবহার হলে অর্থনৈতিক দিক থেকে বাঁকুড়া রাজ্যের প্রথম স্থানে থাকত।’ সুজিত বাবুর অভিযোগ, সেই সব সম্পদ শাসক দলের নেতারা পাচার করছেন। এখন প্রশাসনও যে চোর সেটা এই মদ পাচারের ঘটনায় প্রমাণিত।

বাঁকুড়ার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি ডা: সুভাষ সরকার বলেন, ‘এটা কখনই হওয়া উচিৎ নয়। যেহেতু ব্ল্যাক মার্কেটিং চলছে তাই এখন এই সব মদ দ্বিগুন, তিনগুন দামে বিক্রি হচ্ছে। সে কারণে জালিয়াতচক্র কাজ করছে। আমি রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের কাছে দাবি রাখব এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করতে।’

আরও পড়ুন: পুজোর প্রতিমা তৈরির বরাত বাতিল, বিপাকে রায়গঞ্জের মৃৎশিল্পীরা

অন্যদিকে, রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা বলেন, ‘কি হয়েছে তা আমি জানিনা। আপনাদের মুখেই প্রথম শুনলাম। আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব। নিশ্চয়ই তারা সঠিক তদন্ত করবেন।’ বিরোধীদের মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওরা ঘরের ভিতরে ঢুকে আছেন। আমরা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি তা দেখে ওদের গায়ে তো জ্বালা করবেই। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’