লকডাউনে বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধের জেরে বিপুল ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

347

গৌতম সরকার, চ্যাংরাবান্ধা: কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য চালু হওয়া নিয়ে এখনও অবধি কোনও আশার আলো দেখতে পারছেন না ব্যবসায়ীদের একাংশ। ব্যবসা বন্ধ থাকায় ক্ষতি হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার। কর্মহীন হয়ে পড়েছে বহু শ্রমিক।

ব্যবসায়ীদের কথায়, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকাগুলি বন্ধ করে দিয়ে বেশ কিছু নিয়মকানুন জারি করা হয়েছে। করোনার প্রভাব রয়েছে বাংলাদেশেও। তাছাড়া এখনও প্রশাসনের তরফে তাঁদের হাতে পরিষ্কার কোনও নির্দেশিকা আসেনি।

- Advertisement -

তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে বাণিজ্য চালুর বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে শুধু তাই নয় প্রশাসনের নির্দেশ এলেও করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া অবধি বৈদেশিক বাণিজ্য করতে সকল ব্যবসায়ী আগ্রহী হবেন কিনা সেটা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সব মিলিয়ে কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ এবং ভুটান-বাংলাদেশের বাণিজ্য চালু নিয়ে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন: উত্তরপ্রদেশে আটকে উত্তরবঙ্গের পড়ুয়ারা, বাড়ি ফেরানোর আর্জি

প্রসঙ্গত, এই সীমান্ত দিয়ে গত একমাসেরও বেশি সময় ধরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে রয়েছে। এতে বহু মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। প্রায় হাজার খানেক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে বসে আছেন। যারা ট্রাকে পণ্য লোড, আনলোড এবং ট্রাক চালকের কাজের সঙ্গে জড়িত, টানা বাণিজ্য বন্ধ থাকায় বিষয়টি তাঁদেরকেও দারুণভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।

এই বিষয়ে আইএনটিইউসি-র মেখলিগঞ্জ ব্লক সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ‘বাণিজ্য পুরো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক হাজারেরও বেশি শ্রমিক কর্মহীন হয়ে বসে রয়েছেন। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেটা নিয়ে কিছুই আন্দাজ করা যাচ্ছে না।’

ব্যাবসায়ীরা জানিয়েছেন, চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে দৈনিক পাঁচ শতাধিক পণ্যবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব হয়। বাণিজ্য বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বাণিজ্যে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে সম্প্রতি রাজ্যের পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে প্রশাসনিক কর্তারা বৈঠক করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে বৈদেশিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মানুষদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পাঠানোর বিষয়ে তারা কিছুটা তৎপরও হয়েছেন। যদিও সেখান দিয়েও এখনও এই বাণিজ্য চালু হয়নি। তবে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তে এখনও অবধি এই ধরণের কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাই বৈদেশিক বাণিজ্য আরাম্ভ হওয়া নিয়ে ধোঁয়াশাই রয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন: আমেরিকায় গিয়ে ফুচকা খাওয়ানো হল না, মন খারাপ মনোজিতের

এইপ্রসঙ্গে চ্যাংরাবান্ধা এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিমল কুমার ঘোষ বলেন, ‘বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাতে কবে এখান দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য চালু হতে পারে সেটা নিয়ে তাঁদের পক্ষে এখনই স্পষ্ট কিছু বলা সম্ভব নয়।’

চ্যাংরাবান্ধার কাস্টমস সুপারিনটেনডেন্ট কপিল বাইন জানান, এটা নিয়ে যা বলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলবে। তবে এই প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাননি মেখলিগঞ্জের মহকুমাশাসক রামকুমার তামাং।