বুধবার চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য চালু

ছবি: গৌতম সরকার

চ্যাংরাবান্ধা: কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ফের বৈদেশিক বাণিজ্য চালু হচ্ছে। বুধবার থেকে এই বাণিজ্য চালু হবে। মঙ্গলবার কলকাতায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একথা ঘোষণা করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় দারুণ খুশি ব্যবসায়ীসহ বৈদেশিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মানুষজন। কারণ টানা বাণিজ্য বন্ধ থাকার কারণে তাঁদের বর্তমানে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাবার অবস্থা হয়েছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার থেকে বাণিজ্য চালুর কথা থাকলেও তা চালু হবে কিনা সেটা নিয়ে এদিন স্পষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারেননি।

- Advertisement -

কারণ অধিকাংশই চাইছেন সরকারি নির্দেশিকা মেনে এবং সেগুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করে বাণিজ্য করবেন।পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম কানুন এবং পরিকাঠামোগত বিষয়ের জন্য কিছুটা সময় তাঁরা নিতে চাইছেন। অর্থাৎ, এনিয়ে কোনওরকম তাড়াহুড়ো করে কোনওপ্রকার ঝুঁকি কেউই নিতে চাইছেন না।

চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর যৌথ সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অজয় প্রসাদ এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্য চালুর বিষয় নিয়ে কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার কথা তারা শুনেছেন। এতে তাঁরা সকলেই খুশি। বিষয়টি নিয়ে তাঁরাও প্রশাসনিক মহলে যোগাযোগ করছেন। সম্পূর্ণ সরকারি নির্দেশ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তাঁরা বাণিজ্য করার দিকে এগোচ্ছেন।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে সকল প্রকার বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধ হয়ে রয়েছে। মাঝে গত ১০ জুন বাণিজ্য চালু হলেও ঘন্টা তিনেক পরেই প্রশাসনের নির্দেশে সেটা পুণরায় বন্ধ হয়ে যায়। যা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান ব্যবসায়ী, ট্রাক মালিক, চালক, শ্রমিকসহ কয়েক হাজার মানুষ।

পুনরায় বাণিজ্য চালু করার দাবিতে সোচ্চার হন বিভিন্ন সংগঠন। গঠন করা হয় চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর যৌথ সংগ্রাম কমিটি। তারাও প্রশাসন, মন্ত্রী সহ বিভিন্ন মহলের দ্বারস্থ হন। সকলেরই বক্তব্য এই বাণিজ্যের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচুর মানুষ নির্ভরশীল। কিন্তু আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে থাকায় অনেকের রুটি রুজি বন্ধ হবার উপক্রম। পণ্য নিয়ে সীমান্তে প্রচুর ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাই বাণিজ্য চলার বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় খুশির হাওয়া চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তে।

তবে যেহেতু টানা বন্ধ থাকার পর পুণরায় চালু হবার ঘন্টা তিনেকের মধ্যে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এনিয়ে এবার আর কেউই কোনওধরণের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। সবকিছু বুঝেশুনেই তারা এগতে চান। সরকারি নিয়ম মেনে প্রশাসনিক কর্তা, জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানিকভাবেই এবার বাণিজ্য শুরু করতে চাইছেন এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মানুষজন।

চ্যাংরাবান্ধা এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিমলকুমার ঘোষ জানিয়েছেন, বাণিজ্য বন্ধ থাকায় অনেক মানুষ সমস্যায় রয়েছেন। তাই এটা চালুর খবরে সকলেই খুশি।