নজরে আরিফের ভূমিকা! পুলিশি হেপাজতে দুই বন্ধু সহ আসিফ

122

কালিয়াচক: পরতে পরতে রহস্যের ঘনঘটা। হাড় হিম করা ঘটনায় ভর করে রাতারাতি সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে মালদা জেলার কালিয়াচকের ১৬ মাইল। আর এই ১৬ মাইলের খুনের ঘটনার রহস্য ভেদে নেমে চোখ কপালে উঠছে খোদ পুলিশ কর্তাদের। তদন্তের প্রতি পদে উন্মোচিত হচ্ছে নয়া তথ্য। সেক্ষেত্রে কোনও কিছুকেই লঘু করে দেখছে না পুলিশ। মূল অভিযুক্তকে নিজেদের হেপাজতে নিয়ে তদন্তে গতি আনতে চাইছে। অন্যদিকে, খুনের ঘটনার পর্দা ফাঁসের অন্যতম নায়ক তথা কালিয়াচক কাণ্ডের মূল অভিযুক্তের দাদা আরিফকেও একপ্রকার নজরে রেখে পুলিশ। তার ভূমিকাও ক্রমেই রহস্যময় হয়ে উঠছে তদন্তকারী অফিসারদের কাছে। সেক্ষেত্রে এখনও তাকে ক্লিনচিট দেওয়া হয়নি পুলিশের তরফে।

কালিয়াচক খুন কান্ডের তদন্তের শুরুতেই হাড় হিম হয়ে এসেছিল পুলিশ কর্তাদের। এরপর তদন্ত শুরু হতেও আসিফের কর্মকাণ্ডের খুলাসা হতে শুরু করায় চোখ কাপালে উঠতে শুরু করেছে পুলিশ কর্তাদের। তদন্তকারী অফিসারেরা জানিয়েছেন, ধৃত আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উদ্ধার হয়েছে ৫টি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, ১০টি ম্যাগাজিন এবং ৮০- রাউন্ড তাজা কার্তুজ। এসব উদ্ধার হয়েছে আসিফের দুই বন্ধু সাবির আলি ও মোহাম্মদ মাহফুজ আলির বাড়ি থেকে। তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে ইতিমধ্য়ে। আজ রবিবার তিন ধৃতকে মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হলে তদন্তের স্বার্থে বিচারক আসিফকে ১২ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, আসিফের দুই বন্ধুকে ৪দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আসিফের বিরুদ্ধে আইপিসি ৩০২, ৩০৭ এবং ২০১ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

- Advertisement -

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ পুলিশ কর্তারা জানতে পেরেছেন, খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আসিফ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই বন্ধুর কাছে উদ্ধার হওয়া ওই বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র রেখেছিল। তবে সত্যিই কি ৫০ হাজার টাকার প্রলোভন? নাকি এই খুনের ঘটনায় তাদের যোগ রয়েছে? সেসব অবশ্য খতিয়ে দেখছেন পুলিশ কর্তারা। একইসঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে উদ্ধার হওয়া ওইসব অস্ত্রের উৎস। সঠিক কি কারণে সেসব মজুত করা হয়েছিল তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ধৃতের হেপাজত থেকে উদ্ধার হওয়া কম্পিউটর, মোবাইল সহ উদ্ধার হওয়া অন্যান্য গ্যাজেট খতিয়ে দেখতে ফরেন্সিক প্রতিনিধি দল পৌঁছোতে চলেছে কালিয়াচকে।

এদিন মালদা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুর সরকার বলেন, ‘আসিফকে জেরা করে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র গুলি খুন করবার জন্যই সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে খুন করা হলে প্রতিবেশীরা জেনে যেতে পারেন। তাই, সেই ছক বাতিল করা হয়েছিল। এরপরেই সিদ্ধান্ত বদলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে খুনের পরিকল্পনা হয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’