টোটোদের জমি নিয়ে সমস্যা, দখলে অভিযুক্ত বন দপ্তর

325

নীহাররঞ্জন ঘোষ,  মাদারিহাট : মাদারিহাট থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে পৃথিবীতে একমাত্র ভুটান পাহাড়ের পাদদেশে আদিম উপজাতি টোটোদের বাস। আর টোটোরা নিজভূমে পরবাসী বলে অভিযোগ। কারণ, তাঁদের জমি থাকলেও নিজেদের নামে কতটুকু জমি আছে কেউ জানেন না। টোটোদের দীর্ঘদিনের দাবি, তাঁদের নামে যে ১৯৯৩ একর জমি রয়েছে সেটা বের করে নামজারি করে দেওয়া হোক। কিন্তু বাম আমলে দাবি পূরণ হয়নি। এবার তৃণমূলের শাসনও কয়েক বছর অতিক্রান্ত। কিন্তু জমির সমস্যা আজও মেটেনি। এবার নতুন সমস্যা হল বন দপ্তরের সঙ্গে। তাঁদের অভিযোগ, তাঁদের প্রচুর জমি বন দপ্তর দখল করে রেখেছে। এই জমি পুনরুদ্ধারের জন্য বন দপ্তরের সঙ্গে সম্প্রতি লঙ্কাপাড়া রেঞ্জে আলোচনায় বসেছিলেন তাঁরা। উপস্থিত ছিলেন বন দপ্তরের এডিএফও সঞ্জিতকুমার সাহা, টোটো কল্যাণ সমিতির সভাপতি অশোক টোটো, সাধারণ সম্পাদক বকুল টোটো প্রমুখ। ছিলেন টোটোপাড়া বল্লালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আশা এস বোমজান প্রমুখ। বন কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, তাঁরা জমি দখল করেননি।

অশোকবাবু বলেন, ইতিহাস ঘেঁটে জেনেছি টোটোদের নামে ১,৯৯৩ একর জমি রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মাত্র ৩৪৭ একর জমির রেকর্ড রয়েছে। বাকি জমি কোথায় কাদের দখলে আছে বহুবার আবেদন নিবেদন করেও তা জানতে পারিনি। কাউকে উচ্ছেদ করার বিপক্ষে আমরা। তাঁদের কার নামে কতটুকু জমি আছে তা বের করে রেকর্ড করে দেওয়া হোক। কিন্তু ওই কাজ তো দূরের কথা উলটে আমাদের জমি এবার বন দপ্তর দখল করা শুরু করেছে। তাঁর হিসেবে প্রায় ৩৭০ মিটার এলাকা ভিতরে ঢুকিয়ে নিয়েছে বন দপ্তর। তিনি জানান, টোটোদের ইতিহাস ঘেঁটে জানা গিয়েছে দয়ামারা, কুয়াপানি, জরিপ খোলা ও ভোলেগাঁও- এই সীমানাগুলির অনেকটাই বন দপ্তর দখল করে নিয়েছে। সেইজন্য তাঁরা ১৯৫৫ সালের জমির মানচিত্র এনে সীমানা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

- Advertisement -

আগামী ৩ জুলাই বনকর্তা, ভমি রাজস্ব আধিকারিক, অনগ্রসর কল্যাণ দপ্তরের প্রতিনিধি ও পঞ্চায়েত প্রধানদের নিয়ে আলোচনার ডাক দিয়েছেন। এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বকুল টোটো বলেন, আমাদের জমির সীমানা না থাকায় বন দপ্তর এই সুবিধা নিয়ে নিয়েছে। এবার সীমানা নির্ধারণ করে পাকা খুঁটি পুঁতে পাকাপোক্ত কাজ করা হবে। তিনি জানান, তাঁদের জমির সমস্যা মেটাতে মন্ত্রী-নেতা-আমলা কাকে না বলেছেন। সবাই এড়িয়ে গিয়েছেন। যার জন্য তাঁরা অন্যান্য সরকারি সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এই ব্যাপারে বন দপ্তরের এডিএফও সঞ্জিতকুমার সাহা জানান, আসলে ওই মিটিং হয়েছিল অন্য একটা বিষয় নিয়ে সেখানে জমি ও যৌথ বন সুরক্ষা কমিটি গঠনের প্রসঙ্গটি ওঠে। তিনি জানান, যৌথ বন সুরক্ষা কমিটিতে টোটোপাড়ার বাসিন্দারা থাকবেন কি না তা ওঁদের উপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কবে আলোচনায় বসা হবে ওঁদের তা ঠিক করতে বলা হয়েছে। আর জমির সীমানা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। তবে সীমানায় পাকা খুঁটি মাত্র একটি থাকায় বোঝার সমস্যা হচ্ছে। সেইজন্য সীমানায় আরও পাকা খুঁটি বসানো হবে। এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে। টোটোদের কোনও জমি তাঁদের দখলে নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। অশোকবাবু জানান, আগামী ৩ জুলাই আশা করছেন সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে। সীমানা নির্ধারণ হয়ে গেলে মূল জমি আদায়ের বিষয়ে কাজ শুরু হবে।