সানি সরকার, শিলিগুড়ি : বন্যপ্রাণের হদিস পেতে এবার ব্যবহার করা হবে ড্রোন। লোকালয়ে ঢুকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া লেপার্ড থেকে বাইসন, হিংস্র জন্তুদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে নতুন প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে বন দপ্তর। বন দপ্তরের বিশেষ প্রশিক্ষণ শেষে সুকনা স্কোয়াডকে ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে একটি ড্রোন। সাফল্য এলে প্রয়োজন ভিত্তিক বাকি বন্যপ্রাণ বিভাগকেও তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন দপ্তর। এরফলে বন্যপ্রাণ-মানুষের সংঘাত অনেকটাই কমবে বলে আশাবাদী বনকর্তারা। দার্জিলিং ওয়াইল্ড লাইফ ডিভিশনের ডিএফও জিজু জায়েপার জে বলেন, বনাঞ্চলের পরিধি কমে যাওয়া, বন্যপ্রাণীর খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং জনসংখ্যার নিরিখে বহুতলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় লোকালয়ে লেপার্ড, বাইসনের ঢুকে পড়াটা এখন রোজকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্যপ্রাণকে চিহ্নিত করে জালে বা খাঁচায় বন্দি করার ক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার কার্যকর ভমিকা নেবে।

সুকনা সেনাছাউনিতে হাতির নিখোঁজ হয়ে যাওয়া অথবা সেবক রোডের একটি শপিং মলের সামনের লোকালয়ে লেপার্ডের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আত্মগোপন করে থাকা, বর্তমান সময়ে এমন ঘটনা আকছার ঘটছে। যা সামাল দিতে গিয়ে বিস্তর সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বনকর্মীদের। প্রথমত, বন্যপ্রাণীটির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে কাবু করা। দ্বিতীয়ত, উৎসুক সাধারণ মানুষকে সামাল দিয়ে নিরাপদ জায়গায় রাখা। অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ করা সম্ভব হয় না। ফলে সাধারণ মানুষ যেমন জখম হন, তেমনই বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। গত বছর দুটি বাইসন ঢুকে পড়েছিল ভারত-নেপাল সীমান্তের নকশালবাড়ির একটি গ্রামে। জনতার তাড়ায় এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে ছুটে বেড়াতে গিয়ে কুয়োর পাড়ে পড়ে মৃত্যু হয় একটি বাইসনের। দ্বিতীয়টিকে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করলেও বাঁচাতে পারেনি বন দপ্তর। দীর্ঘসময় দৌড়ানোর জন্য হৃদ্‌যন্ত্র বিকল হয়ে বাইসনটি মারা গিয়েছিল। ঠিক সময়ে ধানখেতের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বাইসন দুটির অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব হলে তাদের বাঁচানো সম্ভব হত বলে ধারণা বনকর্তাদের। একের পর এক এমন ঘটনার পরই নতুন পথ খোঁজার চেষ্টা শুরু হয় বন দপ্তরে। এই উপলব্ধি থেকেই ড্রোন ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়। কোন পরিস্থিতিতে, কীভাবে ড্রোন ব্যবহার করতে হবে, তা নিয়ে কিছুদিন আগে হিজলিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বনকর্মীদের। তাতে অংশ নেন সুকনা বন্যপ্রাণ বিভাগের কর্মীরাও। এই প্রশিক্ষণ শেষেই সুকনা বিভাগকে একটি ড্রোন দেওয়া হয়।

এখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত দার্জিলিং ওয়াইল্ড লাইফ ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ওয়ার্ডেন জয়ন্ত মণ্ডল বলেন, ড্রোন হাতে আসায় ঝোপজঙ্গল অথবা লোকালয়ে লুকিয়ে থাকা বন্যপ্রাণীকে খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে এখন আর তেমন সমস্যা হবে না। সংঘাত রোধের পাশাপাশি সঠিক সময়ে বন্যপ্রাণীকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়াও সম্ভব হবে।