পাহাড়ে এবার ম্যানগ্রোভ ট্রিটমেন্ট, ভূমিক্ষয় রোধে গাছ লাগাবে বন দপ্তর

277

সানি সরকার,  শিলিগুড়ি  : শুধু প্রবল বর্ষণ নয়, মাটি ধরে রাখার ক্ষমতা হারিয়েছে অনেক গাছ, যার জন্য পাহাড়ে চলতি বর্ষণে ধস-ভূমিক্ষয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির এমন রিপোর্ট পেয়ে পাহাড়ে ভূমিক্ষয় রোধে নতুন করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিল বন দপ্তর। পরিকল্পনা অনুসারে, পুজোর প্রাক মুহূর্তে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ ট্রিটমেন্ট শুরু হবে দার্জিলিং, কালিম্পংয়ে। বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পাহাড়ের ভূমিক্ষয় রোধে বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের পরামর্শ মেনে নতুন করে বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার পর অনেকাংশেই পাহাড়ের ভূমিক্ষয় রোধ সম্ভব হবে।

প্রাকৃতিক নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সুন্দরবনকে আগলে রেখেছে ম্যানগ্রোভ। পাহাড়ে ম্যানগ্রোভ সম্ভব নয়, কিন্তু দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ে ধস-ভূমিক্ষয় রোধে সুন্দরবনকে অনুসরণ করতে চাইছেন বনকর্তারা। অতিবৃষ্টির পরেও যাতে মাটি ধরে রাখার ক্ষেত্রে সক্ষম হয় গাছ, তার জন্য এবার উচ্চতাভিত্তিক বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে পাহাড়ে ব্যাপকভাবে ধস নামছে। একের পর এক গাছ উপড়ে পড়ছে, যার বড় একটা অংশ তিস্তায় পড়ে সমতলে ভেসে আসছে। অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে এই বছরের অতিবর্ষণ। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরের ঘটনাবলিতে নজর রেখে এবারের বর্ষণ শুরু হওয়ার আগে পাহাড় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়। পাহাড়ের ভূমিক্ষয়ের জন্য বিরামহীন বৃক্ষচ্ছেদন, পুরোনো হয়ে যাওয়ায় এবং নানা কারণে অনেক গাছের মাটি ধরে রাখার ক্ষমতা হ্রাস সহ বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেন বিশেষজ্ঞরা। ভূমিক্ষয় রোধে উচ্চতা নির্ভর গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন তাঁরা। সেই পরামর্শ মেনে এবার নতুন করে বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন দপ্তর। জানা গিয়েছে, ৫০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পাহাড়ের ঢালে লাগানো হবে শাল, সেগুনের মতো গাছ। এরপর ৩,৫০০ মিটার পর্যন্ত লাগানো হবে ধুপি, পাইন। এর ওপরে লাগানো হবে আইপোমিয়ার মতো গুল্মজাতীয় গাছের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ঘাস এবং অর্কিড। সাধারণত এই ধরনের গাছেরই দেখা মেলে পাহাড়ে। কিন্তু বনকর্তাদের উপলব্ধি, নগরায়ণের জন্য প্রচুর পরিমাণ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি, কাঠের চোরাকারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাহাড়ে, যার জন্য পাহাড়ের বনাঞ্চলের ভিতরে বছরের পর বছর গাছের সংখ্যা কমছে। তাই বিজ্ঞানভিত্তিক উচ্চতা অনুসারে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত বলে জানান বনমন্ত্রী।

- Advertisement -