নেওড়াভ্যালির বাস্তুতন্ত্রের তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হচ্ছে

298

পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি : ইউনেসকোর বিশ্ব হেরিটেজ তালিকায় নাম পাঠানোর পর আজও গহন ও দুর্গম জঙ্গল হিসেবে বিশ্ব হেরিটেজের স্বীকৃতি মেলেনি।কিন্তু বন দপ্তর নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানের বাস্তুতন্ত্রকে স্বাভাবিক রাখতে একের পর এক জীববৈচিত্র‌্যের উপর সমীক্ষা চালিয়ে তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলছে। এবার নেওড়ার বন্য ছত্রাক এবং বুনো ফুল ও অর্কিড নিয়ে বই তৈরি করছে তারা। নেওড়ার ১০ হাজার ৮০০ ফুট উচ্চতায় ইতিমধ্যে তিনটি ক্যাম্প করা হয়েছে। আরও দুটি জীববৈচিত্র‌্যের উপর ক্যাম্প করে নেওড়ার উপর সার্বিক বাস্তুতন্ত্রের তথ্যভাণ্ডার তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে বন দপ্তর।

নেওড়াভ্যালিতে গত দুবছরে তিনটি জীববৈচিত্র‌্যের উপর ক্যাম্প করা হয়েছে। ১৯-২৬ অক্টোবর তৃতীয় ক্যাম্প শেষ করা হয়েছে। আগামী মার্চে চতুর্থ ক্যাম্প করা হবে। এবারের তৃতীয় ক্যাম্প থেকে নেওড়ার গহন জঙ্গলের বন্য বাহারি ফুল ও অর্কিড ছাড়াও বুনো ছত্রাক বা ফাংগাসের উপর অনেক তথ্য পেয়েছেন বন দপ্তর এবং বিশেষজ্ঞ দলটি। বন্যপ্রাণী বিভাগের উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল উজ্জ্বল ঘোষ জানান, বিভিন্ন সময়ে জঙ্গল থেকে ফাংগাস বা ছত্রাক রান্না করে বা সেদ্ধ করে খাওয়ার পর অসুস্থ বা মৃত্যু হওয়ার খবর মিলছে। বহু অর্কিড, বুনো ফুল রয়েছে যার প্রকৃতিতে বাস্তুতন্ত্র স্বাভাবিক রাখতে কতটা গুরুত্ব আছে তা অনেকেই জানেন না। তিনি বলেন, আমরা শুধু নেওড়ার বাঘ বা অন্য বন্যপ্রাণী নিয়ে শোরগোল করে থাকি। কিন্তু নেওড়ার এই জঙ্গলে ইকো পর্যটনের প্রসার ঘটাতে কখনই দেব না। নেওড়ার জঙ্গলের স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র আমাদের অব-হিমালয়ে জীববৈচিত্র‌্যের সংরক্ষণে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। তাই নেওড়ার জঙ্গলকে ইউনেসকোর বিশ্ব হেরিটেজ তালিকায় স্বীকৃতি মেলার জন্য আমরা অনেক আগেই আবেদন করেছি। ইউনেসকো তাদের তালিকায় নথিভুক্ত করলেও বিশ্ব হেরিটেজ জঙ্গলের স্বীকৃতি দেয়নি। তাই নেওড়াভ্যালির বাস্তুতন্ত্রের সার্বিক তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে জীববৈচিত্র‌্যের উপর তিনটি সমীক্ষা করা হয়েছে। আরও দুটি করা হচ্ছে বলে উজ্জ্বলবাবু জানান। মুখ্য বনপাল বলেন, আমরা নেওড়ায় পর্যটক প্রবেশ করতে দেব না। কিন্তু নেওড়ার বাস্তুতন্ত্র নিয়ে যে তথ্য উঠে আসছে তা এই রাজ্যের তথা দেশের ফরেস্ট পলিসি, সংরক্ষণে কাজে আসবে। বুনো কিছু ফুল, পোকামাকড় শিকার করে, কোন ছত্রাকের কী গুরুত্ব আছে তার তথ্য জোগাড় করেছে বন দপ্তর। নেওড়ার ফুল, অর্কিড, ফাংগাসের ছবি দিয়ে তথ্য সংবলিত বই প্রকাশ করছে বন দপ্তর, য়া গবেষণার কাজে আসবে। নেওড়ার বাস্তুতন্ত্র অব-হিমালয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র‌্যকে স্বাভাবিক রেখেছে। তাই পর্যটন প্রসার য়াতে না হয় সেই প্রস্তাব রেখেছে বন দপ্তর। নেওড়ার বিভিন্ন উচ্চতায় বিভিন্ন প্রজাতির, বিভিন্ন চরিত্রের, বিভিন্ন আবহাওয়ায়, রংবেরংয়ে পোকামাকড়, ব্যাং, সাপ, সরীসৃপ, ফুল, অর্কিড, ছত্রাক, পিঁপড়ে, মথ অনেক কিছুই পাওয়া গিয়েছে। কষ্ট হলেও পায়ে হেঁটে দুর্গম নেওড়ার জঙ্গলে জীববৈচিত্র‌্যের উপর এই সমীক্ষাই অব-হিমালয়ে বাস্তুতন্ত্রকে নতুন করে ভবিষ্যত্কে চেনাবে বলে জানান উজ্জ্বলবাবু।

- Advertisement -