নেওড়াভ্যালির হেরিটেজ স্বীকৃতি আদায়ে জোর বনদপ্তরের

253

পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি : নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানে একের পর এক বাঘের অস্তিত্ব ট্র‌্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়ার পর সেখানকার জীববৈচিত্র‌্য সংরক্ষণে আরও তৎপর হতে চলেছে বন দপ্তর। ইউনেসকোর বিশ্ব হেরিটেজ তালিকায় থাকা নেওড়ার হেরিটেজ স্বীকৃতি আদায়ে এবার বেশি করে বিশ্বের দরবারে চাপ তৈরি করবে বন দপ্তর। ২০১৭-২০২০ সাল পর্যন্ত নেওড়ায় একের পর এক ট্র‌্যাপ ক্যামেরায় বাঘের ছবি ধরা পড়ায় এই দাবি আরও  জোরালো করবে বন দপ্তর।

বন্যপ্রাণ বিভাগের উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল উজ্জ্বল ঘোষ বলেন, নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানে কেবলমাত্র বাঘ নিয়ে আমরা খুশি নই। গত দুবছরে আমি নিজে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তিনবার নেওড়ার জঙ্গলে জীববৈচিত্র‌্যের সমীক্ষা করেছি। আগামী মার্চে চতুর্থ দফার সমীক্ষা করা হবে। জঙ্গলে যে ধরনের জীব, গাছপালা আছে তাতে আমরা নেওড়ার উপর এমন তথ্য ও গবেষণা করছি, যা দেশের বন আইনে কাজে আসবে। তাই ইউনেসকোর হেরিটেজ স্বীকৃতি আদায়ে এখন আমরা জোরদার সওয়াল করতেই পারি। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিললে আর্থিক সাহায্য সহজে পাওযা যাবে। রাজ্যের একমাত্র ভার্জিন ফরেস্ট কালিম্পং-এর নেওড়াভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক ৮ বছর আগে ২০০৯ সালে ইউনেসকোর হেরিটেজ তালিকায় মনোনয়ন পেলেও হেরিটেজের স্বীকৃতি আজ পর্যন্ত পায়নি।সিকিমের কাঞ্চনজঙ্ঘা জাতীয় উদ্যান সম্প্রতি ইউনেসকোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পেলেও অনেক আগেই নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যান এই স্বীকৃতির আবেদন করেও এই সম্মান জোটেনি। এই সম্মান পেতে যে পরিমাণ গবেষণা নেওড়াভ্যালিকে নিয়ে করা প্রয়োজন ছিল তা হয়নি। ১৯৯২ সালে নেওড়াভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের স্বীকৃতি মেলে। ২০০৯ সালে এই গহন অরণ্যের অদ্ভুত জীববৈচিত্র‌্যের খবর নিয়ে ইউনেসকো থেকে নেওড়াভ্যালিকে তাদের হেরিটেজ তালিকার মনোনয়ন দেওয়া হয় স্বীকৃতি প্রদানের জন্য। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই স্বীকৃতি মেলেনি।

- Advertisement -

প্রথম অবস্থায় মাত্র ৮৮ বর্গকিমি এলাকাজুড়ে নেওড়াভ্যালির স্বীকৃতি মিললেও, ২০১৩ সালে বন উন্নয়ন নিগম থেকে আরও ৮০ বর্গকিমি জঙ্গল এলাকা যুক্ত করা হয়েছে। বনদপ্তর সূত্রে খবর, নেওড়াভ্যালি নিয়ে এখনও পর্যন্ত ৫০ শতাংশ সমীক্ষার কাজই শেষ হয়নি। যেটুকু হয়েছে তার মধ্যে ৫০ শতাংশ বন্যজীব, বন, জঙ্গল, ওষুধের গাছই বিরল প্রজাতির। বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী আইইউসিএন-এর রেড বুক নথিভুক্ত। যার মধ্যে ৩৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী জীব, ৩০৮ প্রজাতির পাখি, ২৭৬ প্রজাতির কীটপতঙ্গ, বিভিন্ন প্রজাতির ফল, ফুল, অর্কিডের বিরল প্রাধান্য রয়েছে। মেরুদণ্ডহীন জীব রয়েছে ৩৮ প্রজাতির। বিলুপ্তপ্রায় এবং বিলুপ্ত হয়ে কিছু দেখা যায় এমন প্রজাতির জীব, গাছগাছড়া রয়েছে নেওড়াভ্যালিতে। ১৮০০-৪৪০০ মিটার উচ্চতায় বিভিন্ন প্রজাতির পাহাড়ি বাঁশ গাছও বিরল। রেড পান্ডা, ক্লাউডেড লেপার্ড, হিমালয়ান ভাল্লুক, প্যাঙ্গোলিনের পাশাপাশি রয়েছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের ডিএফও নিশা গোস্বামী জানান, ট্র‌্যাপ ক্যামেরায় বাঘের ছবি গত ৩ তারিখ উঠেছে। আমাদের এক বনকর্মী অজিত রায় নিজের চোখে বাঘ দেখেছেন। আমরা আরও ক্যামেরা বসাচ্ছি। গুরুত্ব দিয়ে নেওড়ার উপর সার্বিক পরিকল্পনা নিচ্ছি।