পোস্টার হাতে ময়দানে বনকর্মীরা, কিন্তু কেন…

40

বীরপাড়া: আইন মানছেন না ডুয়ার্সের হাতি উপদ্রুত এলাকার অনেক বাসিন্দাই। হাতির হানা ঠেকাতে বেআইনিভাবে বিদ্যুৎবাহী তারের বেড়া ব্যবহার করছেন তাঁরা। ফলে ঠেকানো যাচ্ছে না হাতির মৃত্যু। কখনও আবার ঝুলে পড়া বিদ্যুতবাহী তারের সংস্পর্শেও মৃত্যু হচ্ছে হাতির। সম্প্রতি মোরাঘাট রেঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎবাহী তারের বেড়ার সংস্পর্শে ১ মাসের ব্যবধানে দু’টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাতি মৃত্যু রুখতে জলপাইগুড়ি ডিভিশনের দলগাঁও রেঞ্জের তরফে ১৯ নভেম্বর থেকে সপ্তাহব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে। মাইকিং-এর পাশাপাশি পোস্টার লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বন্যপ্রাণ আইন মনে করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎবাহী তারের বেড়ার ব্যবহার বন্ধ করার আবেদন জানানো হচ্ছে। আবার নির্দেশিকা অগ্রাহ্য করলে কিংবা বিদ্যুতবাহী তারের বেড়ার সংস্পর্শে হাতির মৃত্যু হলে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেকথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন বনকর্মীরা।

২০১৬ সালের ১৮ জুন দলগাঁও রেঞ্জের বীরপাড়া সংলগ্ন দেবীশিমূল গ্রামে ফসল বাঁচাতে বেআইনিভাবে দেওয়া বিদ্যুতবাহী তারের বেড়ার সংস্পর্শে এসে মৃত্যু হয়েছিল একটি মাকনার। ওই এলাকাতেই ২০১৭ সালের ২৪ মে বিদ্যুতের তারের বেড়ার সংস্পর্শে ২২ বছর বয়সি আরেকটি মাকনার মৃত্যু হয়। ২০২০ সালের ২০ জুলাই রামঝোরা চা বাগানে বিদ্যুতবাহী তারের বেড়ার সংস্পর্শে ১৩ বছর বয়সি একটি দাঁতালের মৃত্যু হয়। চলতি বছরের ১৫ জুন দলমোর চা বাগানে ঝুলে পড়া বিদ্যুতবাহী তারের সংস্পর্শে প্রাণ হারায় একটি মাকনা। ২০২০ সালের জুন মাসে মাদারিহাট রেঞ্জের পূর্ব মাদারিহাটে ছিঁড়ে মাটিতে পড়া বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে একটি হাতির মৃত্যু হয়েছিল। ওই বছরের অগাস্ট মাসে বানারহাট এলাকায় ধানখেত রক্ষায় লাগানো বিদ্যুতবাহী তারের বেড়ার সংস্পর্শে ১টি হাতির মৃত্যু হয়। চলতি বছরের ১৬ অক্টোবর মোরাঘাটের ভাণ্ডারকুড়া এলাকায় ১টি এবং ১৬ নভেম্বর মঙ্গলকাটা এলাকায় ১টি হাতির মৃত্যু হয় বিদ্যুতবাহী তারের সংস্পর্শে আসায়।

- Advertisement -