পিলখানায় বনকর্মীদের সঙ্গে খুনশুটি অনাথ হাতির ছানার

630

মাদারিহাট : ফের অসাধ্যসাধন করে ফেলেছেন জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের হলং সেন্ট্রাল পিলখানার মাহুতরা। বন্যদের প্রতি ভালোবাসা, মায়ামমতা থাকলে কঠিন লড়াইয়ে যে জেতা সম্ভব, তা ফের প্রমাণ করলেন তাঁরা। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তোর্ষা নদীতে ভেসে আসা মাত্র পাঁচদিনের অনাথ হস্তীশাবককে বাঁচিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছেন জলদাপাড়ার বনকর্মীরা। বেঁচে যাওয়া সেই হস্তীশাবক এখন ফুরফুরে মেজাজে দুই বন্ধুর সঙ্গে খুনশুটি করে দিন কাটাচ্ছে। হলং সেন্ট্রাল পিলখানায় এখন তার সর্বক্ষণের সঙ্গী একইভাবে বেঁচে আসা একটি অনাথ হস্তীশাবক ও মৃত কুনকি হাতি মেরির অনাথ শাবক। এই শাবকটিকে বাঁচিয়ে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছেন মাহুত শ্যারণ তামাং ও প্রাণী চিকিত্সক উৎপল শর্মা।

বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মাহুত শ্যারণ গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নিজের সংসার, পরিবার ত্যাগ করে ২৪ ঘণ্টা শাবকটির সঙ্গে থাকছেন। এমনকি রাতে পিলখানাতেই ওই শাবকের পাশে ঘুমান তিনি। প্রাণী চিকিৎসক উৎপল শর্মা জানান, শাবকটিকে দুই ঘণ্টা অন্তর লেকটোজেন ওয়ান খাওয়ানো হচ্ছে। এছাড়া যাতে গ্যাস না হয়ে যায় সেইজন্য ওষুধ একবার করে দেওয়া হচ্ছে। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বনাধিকারিক কুমার বিমল জানান, মাত্র তিন থেকে চারদিনের একটি হস্তীশাবককে মা ছাড়া বাঁচিয়ে রাখার রেকর্ড খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বিশেষ করে ভযংকর স্রোতে ভেসে আসা এত ছোট হস্তীশাবককে উদ্ধার করার পর বাঁচিয়ে রাখা কত যে কঠিন লড়াই, তা একমাত্র চিকিৎসক ও মাহুতরাই জানেন। আর এই শাবকটিকে বাঁচিয়ে রাখতে তাঁরা যা করছেন তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। যদিও তিনি জানান, এখনও ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করে বলা যায় না যে, হস্তীশাবকটি পুরোপুরি সুস্থ। হলং সেন্ট্রাল পিলখানায় উদ্ধার হওয়া শাবকটি বন্ধু হিসেবে পেয়েছে তার থেকে কয়েক মাসের বড় একটি জংলি অনাথ শাবককে। আরেকটি এই পিলখানায় মারা যাওয়া কুনকি হাতি মেরির শাবককে। এই দুজনের সঙ্গে খুনশুটি করেই দিন কাটিয়ে দিচ্ছে শাবকটি। তবে শাবকটির সঙ্গে সর্বক্ষণ থাকছেন মাহুত শ্যারণ তামাং। কারণ, যে কোনও সময় এই তিন শাবকের মধ্যে মারপিট লেগে যেতে পারে। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন্যপ্রাণ সংরক্ষক দেবদর্শন রায় বলেন, উদ্ধার হওয়া শাবকটিকে নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যা করা হচ্ছে। মায়ের দুধ এই ধরনের শাবকদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। মায়ের দুধ ছাড়া এত ছোট শাবককে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন। কিন্তু মায়ের দুধ পাওয়া তো সম্ভব নয়। তাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসক ও মাহুত।

- Advertisement -