ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতির বার্তা শ্রমমন্ত্রী গোলাম রব্বানির

63

কালিয়াচক: সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে সকলকে এক হয়ে লড়াই করার বার্তা দিলেন শ্রমমন্ত্রী গোলাম রব্বানি। মঙ্গলবার বিকেলে কালিয়াচকের বড়নগর ডাঙ্গা এলাকায় ব্লক তৃণমূলের একটি কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিনের সভায় মন্ত্রী গোলাম রব্বানি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্য কমিটির সহ সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন জেলা তৃণমূলের

কো-অর্ডিনেটর অম্লান ভাদুরি, কালিয়াচক ব্লক তৃনমূলের সভাপতি রাহুল বিশ্বাস সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা। এদিনের সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে গোলাম রব্বানি বলেন, ‘গোটা রাজ্যের ২৯৪টি আসনের প্রার্থী হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি বর্তমানে মন্ত্রী। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি আমাকে বলেন এবার তোমাকে টিকিট দেওয়া হবে না। হলে সেটা মেনে নিতে হবে। অথবা আমাকে যদি বলেন, সুজাপুর কেন্দ্র থেকে লড়াই করতে হবে। সেটাও মেনে নিতে হবে। কারণ রাজ্যের ভোট মূলত হয়ে থাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই হচ্ছেন আমাদের ভোটের মুখ।‘

- Advertisement -

তিনি বলেন, ‘প্রার্থীকে হচ্ছে সেটা দেখার বিষয় নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি আবার ফিরিয়ে আনতে। তৃণমূলের প্রতীক চিহ্নে ভোট দিতে হবে। আমরা এর আগে অনেক মুখ্যমন্ত্রী দেখেছি।  কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত মুখ্যমন্ত্রী এর আগে দেখা যায়নি। একজন ৬৬ বছর বয়সের মহিলা। গোটা রাজ্য চষে বেড়াচ্ছেন। আমরা সাধারণত দেখে থাকি গুরু মহিলার বয়স যদি পঞ্চাশ, ষাট পেরিয়ে যায়। বাড়ির লোক তাকে বাইরে বের হতে দেন না। সতর্কতার সহিত বাড়িতে রাখবার চেষ্টা করে।‘

তিনি বলেন, ‘কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মানুষের জন্য দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এর আগে মালদায় বন্যা হয়েছিল, ভয়ানক বন্যায় গোটা মালদা জেলা প্লাবিত হয়েছিল। সেইসঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও বন্যায় ডুবে গিয়েছিল। আমরা কি দেখেছিলাম। কেন্দ্রের বিজেপির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হেলিকপ্টার করে উপর থেকে একটা চক্কর লাগিয়ে তিনি বিদায় নিয়েছিলেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি করেছিলেন, মালদা এসে বানভাসি মানুষের কাছে জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে তাদের কথা শুনে ছিলেন।‘

সংক্ষিপ্ত ভাষণে মন্ত্রী বলেন, আমি শুনতে পাচ্ছি এখানে অনেক নাম উঠে এসেছে প্রার্থী হওয়ার জন্য। সেটা হতেই পারে। কিন্তু তার মানে এটা নয় যে আমার আমাকে প্রার্থী করা হলো না বলে আমি আর নির্বাচনে খাটব না। সকলে এক হয়ে যদি নির্বাচনে লড়াই করে তাহলে অবশ্যই তৃণমূল কংগ্রেসের জয় হবে। সকলকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে।

এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন,  ‘কেন্দ্রের বিজেপি সরকার একের পর এক ভ্রান্তনীতি পাস করে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। দেশের কৃষকরা আজ তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এনআরসি থেকে শুরু করে, ভয়ানক করোনা পর্যন্ত যে মুখ্যমন্ত্রী আপনাদের পাশে থেকেছেন।তাঁ র নাম হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই বিজেপিকে রুখতে সকলে মিলেমিশে তৃণমূলের প্রতীক চিহ্ন ভোট দিয়ে তৃণমূল প্রার্থীকে জয়যুক্ত করতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবার বাংলায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। প্রতিজ্ঞা আজকে করতে হবে।‘

জেলা কডিনেটর অম্লান ভাদুরি বলেন, ‘সুজাপুর কেন্দ্রে স্থানীয় প্রার্থী করার দাবি উঠেছে। আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করছি সুজাপুরে যেন স্থানীয় প্রার্থী দেওয়া হয়। জন্য আমরা সকলে মিলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি যেন আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি উপহার দিতে পারি সেদিকে লক্ষ্য রেখে সকলকে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সকলে মিলে যদি আমরা লড়াই করি তাহলে এই আসনটি অবশ্যই তৃণমূলের দখলে আসবে। সুজাপুর আসনটি বরাবরই কংগ্রেসের দখলে রয়েছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি নিজেদের মধ্যে দলাদলি করি তাহলে সেই পরিস্থিতির হয়তো অন্যজন ফায়দা লুটতে পারে।  তাই সকলকে সচেতন থেকে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।‘