বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়ে আত্মঘাতী ফুটবলার

মিলান : ক্রমাগত বর্ণবিদ্বেষের শিকার হতে হতে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল দেওয়ালে। শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথে হাঁটলেন ইতালির তরুণ ফুটবলার সিড ভিসিন (২১)।

ইথিওপিয়ায় জন্ম হলেও শিশু বয়সে সিড ইতালিতে চলে আসেন। এরপর নোসেরার বাসিন্দা দম্পতি ওয়াল্টার ও ম্যাডালিনা তাঁকে দত্তক নেন। কিশোর বয়সে এসি মিলানের অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন সিড। এরপর খেলেন আরেক নামি ক্লাব বেনাভেন্তোর অ্যাকাডেমির হয়ে। ১৬ বছর বয়সে পড়াশোনার জন্য অ্যাকাডেমি ছেড়ে দেন। তবে ফুটবলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হয়নি। অ্যাটলেটিকো ভিটালিকা নামে এক ক্লাবের হয়ে ফাইভ-এ-সাইড ফুটবল খেলতেন তিনি। সম্প্রতি নিজের বাড়িতেই তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

- Advertisement -

শনিবার তাঁর শেষকৃত্যের সময় পড়া একটি চিঠি থেকে এই বর্ণবিদ্বেষের শিকার হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কিছু বন্ধু ও নিজের মনোচিকিৎসককে ওই চিঠি পাঠান তিনি। সেখানে লিখেছিলেন, এখন আমি যেখানেই যাই, মানুষের চোখে আমার জন্য সন্দেহ, অহংকার, বিদ্বেষ ও ভয় দেখতে পাই। এগুলি আমার কাঁধে পাথরের মতো ভারী হয়ে চেপে বসছে। আমি মানুষের কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে করতে ক্লান্ত। প্রতিক্ষেত্রে মানুষের কাছে প্রমাণ করতে হয় যে তাঁরা আমাকে চেনেন না, আমি তাঁদের মতোই, আমি ইতালিয়ান, আমি সাদা চামড়ার মতোই।

অভিবাসীদের প্রতি বর্ণবিদ্বেষের ঘটনা ইতালি সহ অন্য পশ্চিমি দেশে নতুন নয়। ওই চিঠিতে নিজের এক অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন সিড। লিখেছেন, ওয়েটার হিসেবে কাজ করার সময় শুধুমাত্র গায়ের রংয়ের জন্য এক সাদা চামড়ার মহিলা আমার থেকে পরিষেবা নিতে রাজি হননি। নিজের গায়ের রং নিয়ে আমি লজ্জিত কি না, অভিবাসী হওয়াটা আমার দোষ কি না, সবসময় এগুলির উত্তর চাওয়া হয়েছে আমার থেকে। প্রতি মুহূর্তে এইসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার থেকে বাঁচতে চেয়েছিলেন। তাই হয়তো বেঁচে না থাকার পথে বেছে নিলেন সিড।

এসি মিলানের অ্যাকাডেমিতে সিডের রুমমেট ছিলেন ইতালির তারকা গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মা। এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, মিলানে গিয়ে তোমার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। আমরা একসঙ্গে বোর্ডিংয়ে থেকেছি। কিছু বছর কেটে গিয়েছে। তাও আমি তোমার সুন্দর হাসিটা ভুলিনি, ভুলতে চাইও না। ইতালির প্রাক্তন তারকা ক্লদিও মার্চিসিও ফেসবুকে লেখেন, আমরা দেশ হিসেবে তখনই এক হই যখন তুমি একজন তরুণ প্রতিভা বা শেষ মিনিটে গোল করে ম্যাচ জেতাও। বাকি সময়ে আমরা রেস্তোরাঁয় একজন কৃষ্ণাঙ্গের থেকে পরিষেবা নিতে রাজি হই না। সিডের সঙ্গে যা হয়েছে আমি কল্পনাও করতে পারি না। তবে আমি নিশ্চিত, যে দেশ ওর মতো একজন তরুণকে এই পথে ঠেলে দেয়, সেই দেশ একেবারেই ব্যর্থ। সিডের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছে এসি মিলান এবং ইন্টার মিলান।