বিজেপির কৃষক সংগঠনের নেতৃত্বে প্রাক্তন বিমানসেবিকা ডায়না

340

হ্যামিল্টনগঞ্জ: তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার খুব বেশিদিনের নয়। একসময় দায়িত্ব সামলেছেন বিমানসেবিকা হিসেবেও। বছর দুয়েক হল সক্রিয় রাজনীতিতে পা রেখেছেন উচ্চশিক্ষিত এই যুবতী। সেই ডায়না ঘোষই এখন রাজ্যের কৃষকমুখ।

আলিপুরদুয়ার জেলার হ্যামিল্টনগঞ্জের মেয়ে ডায়না আত্মবিশ্বাস ও প্রত্যয়ের জোরে বিজেপির কৃষক সংগঠনের জাতীয়স্তরের নেত্রী পদে মনোনীত হয়েছেন। বুধবার ভারতীয় জনতা কিষান মোর্চার জাতীয় কমিটির এগজিকিউটিভ কমিটির সদস্য মনোনীত হন তিনি।

- Advertisement -

ডায়নার বাবা দিব্যেন্দু ঘোষ বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি। রাজনীতিতে মেয়ের উত্থানে খুশি তিনিও।

ডায়নার কথায়, ‘এ রাজ্যে কৃষকরা বিভিন্ন সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাঁদের অধিকার আদায় করতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাব। সংগঠনকে আরও মজবুত করাই আমার লক্ষ্য।’

উত্তরবঙ্গে বিজেপির ফল তুলনামূলক ভালো হয়েছে। তার ভিত্তিতেই সর্বভারতীয় স্তরে জায়গা পেয়েছেন বিধানসভা নির্বাচনি প্রচারের ময়দানে থাকা ডায়না। এর আগে বিজেপির সর্বভারতীয় স্তরে পদ পেয়েছেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ট ও তুফানগঞ্জের বিধায়ক মালতী রাভাও। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল উত্তরবঙ্গের আরেক মেয়ে ডায়নার নাম।

রাজনীতির আঙিনায় ডায়নার উত্থান যেন রূপকথার গল্পের মতো। পড়াশোনা চলাকালীন ডায়না একটি বড় বিমান সংস্থায় বিমানসেবিকার চাকরি পান। সেখান থেকেই চলছিল পড়াশোনা। তবে সেখানে থেমে থাকেননি ডায়না। ক্রমেই রাজনীতির বৃহৎ আঙিনায় প্রবেশ করতে শুরু করেন তিনি।

চাকরি করলেও মানুষের জন্য ভালো কিছু করার সুপ্ত ইচ্ছা ছিলই তাঁর মধ্যে। আত্মসম্মান বজায় রেখে সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে অল্প বয়সেই রাজনীতিতে প্রবেশ তাঁর। ডায়নার কার্যকলাপ তাঁকে বিজেপি নেতৃত্বের নজরে নিয়ে আসতে খুব বেশি সময় লাগেনি। সাড়ে তিন বছরের চাকরিতে ইতি টেনে পাকাপাকিভাবে রাজনীতিতে নেমে পড়েন ডায়না।

২০২০-তে তাঁকে কিষান মোর্চার উত্তরবঙ্গের কো-কনভেনার নিযুক্ত করে বিজেপি। সে সময় থেকেই উত্তরবঙ্গের জেলায় জেলায় ঘুরে সংগঠন বিস্তারের কাজ শুরু করেন।

বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে ফল তুলনামূলক ভালো হওয়ায় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেন। রাতারাতি তাঁকে কৃষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আসনে বসিয়ে দিতেও দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি গেরুয়া শিবিরকে।