অন্তরালেই বিদায় ফরচুনাতো ফ্র্যাঙ্কোর

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : একে একে মহাপ্রস্থানের পথে যাত্রা করেছেন ১৯৬২ সালের সোনাজয়ী দলের বেশিরভাগ সদস্যই। এদিন চলে গেলেন ফরচুনাতো ফ্র্যাঙ্কো। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন এদিন তাঁর মৃত্যুর খবর জানায়। তবে কী কারণে তিনি চলে গিয়েছেন তা সরকারিভাবে জানানো হয়নি। ফ্র্যাঙ্কোর রেখে গিয়েছেন তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে। ফ্র্যাঙ্কোকে এই দেশের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার (ছয়েক দশকে হাফ ব্যাক বলা হত) বলা হয়ে থাকে। ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিক দলে থাকলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। কিন্তু ১৯৬২-র জাকার্তা এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। সেবার দক্ষিণ কোরিয়াকে ফাইনালে ২-১ গোলে হারায় ভারত। যা প্রত্যক্ষ করেছিলেন এক লক্ষ দর্শক।

- Advertisement -

সেসময় অবশ্য প্রচারের আলোর প্রায় সবটাই নিয়ে চলে গিয়েছেন পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়, চুনী গোস্বামী, তুলসিদাস বলরাম বা জার্নেল সিংদের মতো তারকারা। কিন্তু ফ্র্যাঙ্কোও চিরকাল মানুষের মনে থেকে যাবেন এঁদের নিঃশব্দে সাহায্য করার জন্য। ক্লাব স্তরে ফ্র্যাঙ্কো মূলত তাঁর ফুটবলার জীবন কাটিয়েছেন মুম্বইয়ের টাটা ফুটবল ক্লাবে। সেখানেই চাকরি করতেন ফ্র্যাঙ্কো। ১৯৯৯ সালে অবসর নেওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি টাটার জনসংযোগ বিভাগে ছিলেন। গোয়ার মানুষ হলেও তিনি সন্তোষ ট্রফিতে প্রতিনিধিত্ব করেন মুম্বইয়ে হয়ে। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৬ পর্যন্ত টানা অধিনায়কত্ব করেছেন মুম্বইয়ের।

এছাড়াও ১৯৬২ সালের এশিয়ান কাপে রানার্স হওয়া এবং ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালের মারডেকা কাপেও খেলেছেন তিনি। দেশের জার্সি গায়ে মোট ২৬ ম্যাচ খেলেছেন ফ্র্যাঙ্কো। তাঁর ফুটবলার জীবনের একেবারে শেষ মরশুমে সালগাঁওকারে সই করলেও হাঁটুর চোটের জন্য মাত্র ৩০ বছর বয়সে অবসর নিতে বাধ্য হন। অনেকেই বলেন, ১৯৬৫ সালে তিনি অবসর না নিলে পরের বছর ব্যাঙ্কক এশিয়াডে তাঁকেই দেশের অধিনায়কত্ব করতে দেখা যেত।