নার্সিংহোমে দড়িবাঁধা শিলিগুড়ির প্রাক্তন কাউন্সিলার

92

ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : নার্সিংহোমে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রাক্তন কাউন্সিলার তথা বরো চেয়ারম্যান। প্রায় ৭০ বছর বয়স্ক প্রাক্তন কাউন্সিলার শুভ্রা সরকারকে শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডের একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসার নামে হাত-পা বেঁধে রাখাই শুধু নয়, তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শিলিগুড়ির প্রথম মেয়র প্রয়াত বিকাশ ঘোষের সময়ে পুরবোর্ডে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বাম কাউন্সিলার ছিলেন শুভ্রাদেবী। স্বাভাবিকভাবেই শহরে প্রশ্ন উঠেছে- একজন প্রাক্তন কাউন্সিলারের চিকিৎসার ক্ষেত্রেই যদি এই অবস্থা হয়, তবে সাধারণ মানুষের পরিস্থিতি কী হবে?

পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রাক্তন কাউন্সিলারের পরিবারের তরফে শিলিগুড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ে হয়েছে। শুভ্রাদেবীর ছেলে রাজুবাবুর অভিযোগ, আমার মায়ে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, মা-কে মারধরও করা হয়। আমরা থানায় অভিযোগ জানিয়েছি।

- Advertisement -

শুভ্রাদেবীকে গত ২৪ তারিখ জ্বর, কাশি ও শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা নিয়ে শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডের ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। ২৫ তারিখ তাঁর প্রথম সিটি স্ক্যান করার পর চিকিৎসকরা জানান, ৭০ শতাংশ সংক্রমণ রয়েছে ফুসফুসে। তাই সুস্থ হয়ে উঠতে ৬-৭ দিন সময় লাগবে। কিন্তু ১০ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তিনি সুস্থ হওয়া তো দূরের কথা, শুভ্রাদেবীর সঙ্গে তাঁর পরিবারের টেলিফোনে যোগাযোগ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর তাঁর পরিবারের সদস্যরা মহকুমা শাসকের কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানালে, টেলিফোনে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। শুভ্রাদেবী করোনা সংক্রামিতও ছিলেন। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যদের অনেকে কোভিড সংক্রামিত হওয়ায় ওই নার্সিংহোমে এসে সেভাবে কিছুদিন যোগাযোগও রাখতে পারেননি। তাই শুধুমাত্র টেলিফোনেই যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল।

শুভ্রাদেবীর ছেলে রাজুবাবুর অভিযোগ, রবিবার রাতে আমি মা-কে যে ঘরে রাখা হয়েছে সেখানে গিয়ে দেখি মায়ের দুটি হাত বাঁধা। এরপর মাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি যে তাঁকে শারীরিকভাবেও নির্যাতন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তখনই কথা বলি। কিন্তু তাঁরা আমাদের কথায় কর্ণপাত না করে পুলিশ ডেকে নিয়ে আসেন। এরপরই আমরা এদিন বিষয়টি পুলিশকে জানাই।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ শিলিগুড়ি পুরনিগমের বর্তমান ও প্রাক্তন দুই প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান গৌতম দেব ও অশোক ভট্টাচার্য। গৌতমবাবু বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। আমি কলকাতা থেকে মঙ্গলবার শিলিগুড়ি ফিরছি। যে অভিযোগ উঠেছে তা অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখা হবে। অত্যন্ত অমানবিক আচরণ ও সমস্ত দিক থেকে মানবতাবিরোধী আচরণ। আমি ফিরে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব। পুরো ঘটনার তদন্ত হবে।

অশোকবাবু বলেন, সোমবার রাতে শুভ্রাদেবীর স্বামী আমাকে এ কথা জানান। শুভ্রাদেবীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। হিলকার্ট রোডের ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে এর আগেও অনেক অভিযোগ উঠেছিল। একটা জায়গাতেও কোনও নার্সিংহোমকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। বলা হচ্ছে অনেক কথা, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। শুভ্রাদেবীর পরিবারের তরফে অভিযোগ জানানো হয়েছে। এই ঘটনার তদন্ত হওয়া দরকার।

মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রলয় আচার্যকে টেলিফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। জেলা শাসক এস পন্নমবলমকেও টেলিফোনে পাওয়া যায়নি। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ পালটা থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন রোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে। ওই নার্সিংহোমের অপারেশন হেড তন্ময় সান্যাল বলেন, রোগীর পরিবারের কয়েকজন এসে নার্সিংহোমে হুমকি দিয়েছেন। ওঁরা যেসব অভিযোগ করছেন তার পুরোটাই ভিত্তিহীন। তাঁরা নার্সিংহোমে কী কী করেছেন তার পুরোটার রেকর্ডিং আমরা থানায় পাঠাচ্ছি। জেলা শাসক ও সিএমওএইচকে বিষয়টি নিয়ে চিঠি দিচ্ছি।