জনসংযোগে বেরিয়ে তৃণমূল নেতাদের আশীর্বাদ করলেন প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ রায়

339

সুভাষ বর্মন, শালকুমারহাট: আলিপুরদুয়ারে ডানপন্থী রাজনীতিতে প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ রায়কে এখনও রাজনৈতিক ‘গুরু’ হিসেবে দেখেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের একাংশ। দেবপ্রসাদ রায় সবার কাছে ‘মিঠু দা’ নামেই পরিচিত। রবিবার আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের শালকুমারহাটে কংগ্রেসের হয়ে জনসংযোগে আসেন দেবপ্রসাদ। একই দিনে ওই এলাকায় জনসংযোগমূলক কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তথা জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে। হঠাৎ মুখোমুখী হতেই দেবপ্রসাদ রায় আশীর্বাদ করেন মনোরঞ্জনকে। দুই নেতার এই সৌজন্যতায় মুগ্ধ হয়েছেন উভয় দলের সাধারণকর্মীরা। তৃণমূলের অঞ্চল স্তরের আরও কয়েকজন নেতাও এদিন দেবপ্রসাদবাবুর সান্নিধ্যে এসে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন বলে জানা গিয়েছে।

২০১১ সালে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের জোটের প্রার্থী হিসেবে আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্র বিধায়ক নির্বাচিত হন দেবপ্রসাদ রায়। তবে এই জোট এক বছরের বেশি ছিল না। আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হল শালকুমারহাট। এক সময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল এই এলাকা। তবে পরবর্তীতে কংগ্রেস ছেড়ে অনেকেই তৃণমূলে যোগ দেন। তবে বিধায়ক দেবপ্রসাদবাবুর প্রচেষ্টায় এখানে শিসামারা নদীর বাঁধ তৈরি হয়। একটি বহুমুখী হিমঘরেরও শিলান্যাস হয়। এদিকে রাজ্য স্তরে বাম-কংগ্রেস জোটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি কলকাতা থেকে আলিপুরদুয়ারে এসে ঘাঁটি গেড়েছেন দেবপ্রসাদ বাবু। জোটের প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম নিয়ে জল্পনা চলছে। তিনি এবার প্রার্থী হলে আলিপুরদুয়ার আসনে রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই বদলে যেতে পারে। এই সম্ভাবনার মধ্যেই রবিবার দেবপ্রসাদ রায় শালকুমারহাটের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পুরোনো কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

- Advertisement -

তিনি দুপুরে এক কর্মীর বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজনও সারেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ব্লক সভাপতি মনোরঞ্জন দে’র নাম নিয়ে চর্চা চলছে। তাই মনোরঞ্জনবাবুও রোজ দলের জনসংযোগে যাচ্ছেন। এদিন তিনিও শালকুমারহাটে একাধিক আলোচনা সভায় অংশ নেন। এভাবেই প্রবীণ ও নবীন পরস্পরবিরোধী শিবিরের দুই নেতার মধ্যে হঠাৎ সাক্ষাৎ হয়। দেখা হতেই মনোরঞ্জন দে দেবপ্রসাদবাবুর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন।

এ প্রসঙ্গে দেবপ্রসাদ রায় বলেন, ‘আলিপুরদুয়ারে তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক নেতাকেই আমি আশীর্বাদ করেছি। এদিন হঠাৎ করেই মনোরঞ্জনের সঙ্গে দেখা হয়। ওকেও আশীর্বাদ করলাম।’ জোটের প্রার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা দলের সিদ্ধান্ত। আমি পুরোনো লোকদের সঙ্গে দেখা করতেই শালকুমারহাটে এসেছি।’

তবে শিলান্যাস হলেও আট বছরেও শালকুমারহাটে বহুমুখী হিমঘর তৈরি হয়নি। এজন্য দেবপ্রসাদবাবু রাজ্য প্রশাসনের উদাসীনতা ও জটিলতাকেই দায়ী করেন। এদিকে, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মনোরঞ্জন দে বলেন, ‘মিঠু দাকে রাজনৈতিক গুরু হিসেবেই দেখি। তাই দেখা হতেই ওঁনার আশীর্বাদ নিলাম।’ দলের প্রার্থী হিসেবে নিজের নামে জল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা দলনেত্রীর সিদ্ধান্ত। দলের সৈনিক হিসেবে কাজ করছি। এখন রোজ জনসংযোগে যাচ্ছি।’