জমি পুনরুদ্ধারে কেপিপির দ্বারস্থ প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান

84

রাজগঞ্জ: জমি পুনরুদ্ধারের জন্য কেপিপির দ্বারস্থ হয়েছেন ফুলবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান নগেন্দ্রনাথ রায়। সোমবার কেপিপির কর্মীরা জমিতে গিয়ে দখলদারের লোককে সরিয়ে দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

রাজগঞ্জের ফুলবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ছোবাভিটা এলাকায় প্রায় দুই একর জমি নিয়ে বেশ কয়েক বছর থেকে ঝামেলা চলছে। কংগ্রেসের প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান নগেন্দ্রনাথ রায় জানান, ওই জমিটি তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি। ১৯৬১ সালে তাঁর বাবা মিনচাঁদ সিংহ রায় দুই একর জমি দানপত্র করে দেন। পরবর্তিতে নিজের নামে খতিয়ান করে নেন তিনি। কিন্তু শিলিগুড়ি শহরের কালাচাঁদ কুণ্ডু ও তাঁর কয়েকজন আত্মীয় জবরদখল করে রেখেছেন। প্রায় ৮০ বছরের বৃদ্ধ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নগেন্দ্রনাথ বাবুর কথায়, যাঁরা জমিটি দখল করে রেখেছেন তাঁরা জমির সঠিক নথি দেখাতে পারেনি। অনেক চেষ্টা করেও জমি উদ্ধার করতে না পেরে কামতাপুর প্রগ্রেসিভ পার্টির (কেপিপি) দ্বারস্থ হয়েছেন। জমি উদ্ধারের ব্যাপারে ওই সংগঠনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিন বেশ কিছু কেপিপির কর্মী এবং রাজবংশী সম্প্রদায়ের কয়েকটি সংগঠনের সদস্যরা গিয়ে ওই জমি উদ্ধারের চেষ্টা করেন। নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

- Advertisement -

কেপিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি বুধারু রায় জানান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নগেন্দ্রনাথ রায় তাঁর বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য সংগঠনের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। রবিবার বিষয়টি নিউ জলপাইগুড়ি থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়। তাই এদিন দলের তরফে ওই জমি উদ্ধার করে দেওয়া হল। শুধু নগেনবাবু নয়, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় রাজবংশীদের জমি দখল করার চেষ্টা হচ্ছে। এছাড়া জমি কেনাবেচা করতে গিয়েও রাজবংশীরা সমস্যায় পড়ছেন। তাই দলের তরফে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানান বুধারুবাবু।

যাঁরা জমিটি দখল করে রেখেছেন সেই পরিবারের তরফে কালাচাঁদ কুন্ডুর দাবি, তাঁরা প্রায় ৬০ বছর আগে ওই জমি কিনেছেন। সেই সংক্রান্ত নথি আছে। তবুও ওই প্রাক্তন শিক্ষক অন্যায়ভাবে জমিটি দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হবে।