পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের

1687

নয়াদিল্লি: পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হল প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের। মঙ্গলবার মাস্ক পরে নিরাপদ দূরত্বে তাঁকে সকলে শেষ বিদায় জানান। প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিকে শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু প্রমুখ।

এদিন ভারতরত্ন প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মরদেহ নিয়ে একটি বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে সেনা হাসপাতাল থেকে যাত্রা শুরু হয়। অন্তিম সংস্কারের আগে তাঁর মরদেহ ১০ নং রাজাজি রোডে তাঁর বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। দিল্লির রাজাজি রোডের বাড়ি থেকে শুরু করে লোধি রোড শ্মশান, সর্বত্রই কোভিড বিধিনিষেধ মেনে শেষকৃত্য সম্পন্ন হল ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতির। জানা গিয়েছে, এদিন পিপিই কিট পরেই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেন পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। পরিবারের অন্য সদস্যরাও সবাই পিপিই কিট পরে শামিল হয়েছিলেন শেষকৃত্যে। এ ছাড়া কোভিড প্রোটোকল মেনে শ্মশানেও লোকসংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছিল।

- Advertisement -

তিন সপ্তাহ আগে দিল্লির আর্মি রেফারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। সোমবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। সোমবার বিকেলে প্রণব-পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় টুইট করে এখবর জানান।

তিন সপ্তাহ আগে দিল্লির আর্মি রেফারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। ৯ অগাস্ট দিল্লির বাসভবনে শৌচালয়ে পড়ে মাথায় গুরুতর চোট পান। তাঁকে দিল্লির সেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ ধরা পড়লে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয় তাঁর। সেই সময়ে জানা যায় করোনা আক্রান্ত তিনি। এরপর আর সুস্থ হয়ে ওঠেননি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। কোমায় চলে যান। ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয় তাঁকে। এরপর কখনও উন্নতি, কখনও অবনতি ধরা পড়ে তাঁর স্বাস্থ্যে।

মাঝে চিকিৎসায় সাড়াও দিচ্ছিলেন তিনি। গত সপ্তাহে ফুসফুস ও কিডনিতে সমস্যা ধরা পড়ে। যদিও স্বাস্থ্যজনিত প্যারামিটার স্থিতিশীল ছিল প্রণববাবুর। ডাক্তারি পরিভাষায় তিনি ‘হিমোডায়নামিক্যালি স্টেবল’ ছিলেন। কিন্তু সোমবার ফের তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতির কথা সামনে আসে। এরপর দুপুরে তাঁর ছেলে একটি টুইটে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর খবর জানান। তাঁর প্রয়াণে গতকাল সাতদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কথা ঘোষণা করে কেন্দ্র।

১৯৩৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বীরভূম জেলার কীর্ণাহার লাগোয়া মিরিটি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা কামদাকিঙ্কর বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং কংগ্রেস নেতা ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৬৯-এ বাংলা কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভার সদস্য হন। ১৯৭৫ সালে কংগ্রেসের টিকিটে দ্বিতীয়বার রাজ্যসভার সদস্য হন প্রণববাবু। ১৯৭৩ সালে শিল্প প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ১৯৮২ সালে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

পি ভি নরসিংহ রাওয়ের জমানায় যোজনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলান প্রণববাবু। সেইসময় অর্থমন্ত্রী ছিলেন মনমোহন সিংহ। তাঁর আর্থিক সংস্কার নীতি রূপায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। ১৯৯৫ সালে বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। ২০০৪ সালে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রে সাংসদ হন তিনি।

মনমোহন সিংয়ের ২০০৪ থেকে ২০০৬ অবধি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ২০০৬ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণ সম্মান পান তিনি। ২০১২ সালে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন তিনি। ২০১২ সালের ২৫ জুলাই প্রথম বাঙালি হিসাবে ভারতের রাষ্ট্রপতি হন প্রণব মুখোপাধ্যায়। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে ভারতরত্নে ভূষিত করে।