কার্ড থাকলেও র‌্যাশন অমিল, সমস্যায় সাবেক ছিটের বাসিন্দারা

180

হলদিবাড়ি : লকডাউনের জেরে হলদিবাড়ির সাবেক ছিটের তেঁতুলতলার স্থায়ী শিবিরের বাসিন্দারা সমস্যায় পড়েছেন। ছিটমহল বিনিময় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জেলা শাসকের কোটায় সরকারের দেওয়া বরাদ্দকৃত র‌্যাশনের চাল পেলেও দেশের নাগরিক হিসেবে তাঁরা র‌্যাশন পাচ্ছেন না। কিন্তু, সেই চাল পর্যাপ্ত নয়। বাসিন্দারা জানান, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের অন্ত্যোদয় অন্নপূর্ণা যোজনায় ২০১৬ সালে প্রতিটি পরিবারকে ডিজিটাল কার্ড বিলি করা হলেও আজ পর্যন্ত সেই কার্ডের মাধ্যমে তাঁরা র‌্যাশন সামগ্রী পাননি। যদিও হলদিবাড়ির ফুড সাপ্লাই ইনস্পেকটর শুভদীপ ভাওয়াল বলেন, শীঘ্রই তাঁদের ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে র‌্যাশন দেওয়া হবে।

হলদিবাড়ি ব্লকের তেঁতুলতলার ওই স্থায়ী শিবিরে ১০৩টি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে কেউ টোটোচালক, কেউ দিনমজুর। অনেকে ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। লকডাউনের জেরে এমনিতেই তাঁরা কাজ হারিয়েছেন। সরকারি, বেসরকারি সাহায্যও মেলেনি। ফলে চরম খাদ্যসংকটে পড়েছেন প্রায় ৫৫০ জন বাসিন্দা। শিবিরের বাসিন্দা জয়প্রকাশ রায়, লালচাঁদ রায়, তপন রায় জানান, ঘরে সব ফুরিয়েছে। আরেক বাসিন্দা হরি বর্মন বলেন, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার লকডাউনের মধ্যে কর্মহীন মানুষকে আলাদা করে র‌্যাশন দিচ্ছে। অথচ আমরা প্রাপ্যটুকুও পাচ্ছি না। সাবেক ছিটের বাসিন্দা অশ্বিনীচন্দ্র রায় বলেন, এখন ৫ সদস্যযুক্ত প্রতিটি পরিবারকে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। ৫ জনের বেশি সদস্যযুক্ত পরিবারের জন্য মাথাপিছু আরও ৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ করা হয়। এছাড়া, ৫ লিটার কেরোসিন তেল এবং অতিরিক্ত সদস্য পিছু ৫০০ মিলিগ্রাম তেল মেলে। অন্যদিকে, ডিজিটাল র‌্যাশন কার্ডে পরিবার পিছু কমপক্ষে ৩০ কেজি চাল ও বাকি সদস্যদের মাথা পিছু আরও ৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এছাড়া, পরিবার পিছু ১৯ কেজি করে আটাও দেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগ, একদিন মশা মারার তেল স্প্রে করেই দাযিত্ব সেরেছে প্রশাসন।  হলদিবাড়ির ফুড সাপ্লাই ইনস্পেকটর শুভদীপ ভাওয়াল বলেন, এতদিন জেলা শাসকের স্পেশাল কোটা হিসেবে তাঁদের র‌্যাশন দেওয়া হত। চলতি মাস থেকে তা বন্ধ রয়েছে। চলতি মাসের ১৫ তারিখ থেকে তাঁদের ডিজিটাল কার্ডের র‌্যাশন দেওয়া হবে। হলদিবাড়ির বিডিও সঞ্জয় পণ্ডিত বলেন, বাসিন্দাদের সরকারি পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্য সমস্যাগুলি আলোচনা করে মেটানো হবে।

- Advertisement -