প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে অ্যাথলিট গড়ার লক্ষ্যে অবিচল প্রাক্তন শিক্ষক

220

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: ইতিমধ্যে নাম উঠেছে প্রবীণ নাগরিকের তালিকায়। সেই সুবাদে বছর কয় আগেই অবসর নিয়েছেন চাকরি জীবন থেকে। যদিও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি একচুল। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনও দায়বদ্ধতা না থাকলেও ব্যক্তিগত উদ্যোগেই শতাধিক ছেলে-মেয়েদের প্রশিক্ষণে ব্রতী বছর ৬৫-র এনআইএস ডিপ্লোমাধারী অ্যাথলেটিক্স প্রশিক্ষক সজল দাস। তিনি রামপুর ইন্দিরা উচ্চ বিদ্যাপীঠে ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর লক্ষ্য গ্রামের ছেলে-মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিয়ে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণে উপযুক্ত করে তোলা। সেক্ষেত্রে অবশ্য কখনও পারিশ্রমিক দাবি করেন না একবিংশ শতাব্দীর দ্রোণাচার্য সজলবাবু।

জানা গিয়েছে, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই প্রশিক্ষণের কাজ জারি রেখেছেন সজলবাবু। রায়গঞ্জের কর্নজোড়ার হাউজিং মাঠে নিয়ম করে সকাল-বিকেল চলে প্রশিক্ষণ। ইটাহার, হেমতাবাদ, কালিয়াগঞ্জ, ভাটোল, বিন্দোল এবং রায়গঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছেলে-মেয়েরা তাঁর কাছে প্রশিক্ষণ নেন। দৌঁড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, ডিসকাস থ্রো সহ একধিক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেন সজলবাবু। তাঁকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছেন শিক্ষক কৃষ্ণেন্দু রায়চৌধুরী। ইতিমধ্যে সজলবাবুর কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে বহু ছেলে-মেয়েরাই সুপ্রতিষ্ঠিত বর্তমান সময়ে। কেউ চাকরি করছেন সামরিক বাহিনীতে। আবার কেউ পুলিশ, বিএসএফ কিংবা রেলে কর্মরত।

- Advertisement -

তবে প্রশিক্ষণের এই কাজ খুব একটা সহজ নয়। সজলবাবু জানিয়েছেন, মাঠ রয়েছে প্রশিক্ষণের জন্য। কিন্তু তা খুব একটা আদর্শ মাঠ নয়। নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় চতুর্দিক জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। এছাড়াও মাঠের এককোনে থাকা শৌচালয় থাকে তালা বন্ধ। অন্য়দিকে, প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলি রাখার জন্য নেই কোনও সুবন্দোবস্ত। স্বাভাবিকভাবেই মাঝেমধ্যে সেসব চুরি হয়ে যাচ্ছে। যদিও প্রতিকূলতকা পাশ কাটিয়েই চলছে প্রশিক্ষণের কাজ। যদিও ইতিমধ্যে সরকারি সাহায্যও মিলেছে প্রশিক্ষণের সরঞ্জাম কেনার জন্য। তাতে অবশ্য় কিছুটা খুশি সজলবাবু।

হাউজিং মাঠে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেয় রায়গঞ্জের রমেন্দ্রপল্লীর বাসিন্দা ঐতিহ্য রায়। চলতি শিক্ষাবর্ষে সে একাদশ শ্রেণিতে পাঠরত। শটপাট ও ডিসকাস থ্রো-র প্রশিক্ষণ নিচ্ছে সে। ইতিমধ্যে পেয়েছে সাফল্য। ২০১৯ সালে রাজ্যস্তরে তৃতীয় স্থান লাভ পেয়েছে সে। ঐতিহ্য জানিয়েছে, মাঠে অনেক সমস্যা। তবুও নিয়মিত চলে। লক্ষ্য একটাই জাতীয় স্তরে অংশ নেওয়া। অপর এক উদীয়মান অ্যাথলেটিক্স দুলাল আলি ২০১৯ সালে রাজ্যস্তরে লং জাম্পে সোনা পেয়েছে। জাতীয়স্তরে এবং অলিম্পিকই এখন তার লক্ষ্য। এখানেই শেষ নয়। সজলবাবুর কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে সফলতা পেয়েছে নিখিল রায়, কল্পনা রায়, চিরঞ্জি বৈশ্য, দীপক সরকার, ইতি বিশ্বাস, উজ্জ্বল সিং, মহম্মদ মাহিদুর, পায়েল বর্মনরা।

সহকারি প্রশিক্ষক কৃষ্ণেন্দু রায়চৌধুরী জানান, অনেক সমস্যার মধ্যে দিয়ে পথ চলতে হচ্ছে। তবে, সজলবাবুর পরিশ্রমে সাফল্য নিশ্চিত। অন্যদিকে, কমলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রশান্ত দাস পাশে থাকার বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, মাঝেমধ্যেই মাঠ পরিস্কার করা হয়। পুজোর পর ফের মাঠ পরিষ্কার করা হবে।