২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভোল বদলে তৃণমূলে জেপি নাড্ডাকে মুষ্টি ভিক্ষা দাতাদের পরিবার

254

বর্ধমান, ১০ জানুয়ারিঃ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাকে মুষ্টি ভিক্ষা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ভোলবদল, করলেন ভিক্ষা দাতারা। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার রাজনৈতিক মহলে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ভয় দেখিয়ে তাঁদের দলের মুষ্টি ভিক্ষা দাতাদের ভোলবদল করতে বাধ্য করা হয়েছে।

কাটোয়ার জগদানন্দপুর নিবাসী মুষ্টি ভিক্ষা দাতা নিতাই মণ্ডল, সর্বধর মণ্ডল, মথুরা মণ্ডল ও বেদবতি মণ্ডল ও রুম্পা মণ্ডল শনিবার জেপি নাড্ডাকে মুষ্টি ভিক্ষা দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে রুম্পা বাদে বাকি ৪ জন রবিবার সন্ধ্যায় হঠাতই পৌঁছে যান কাটোয়ার বিধায়ক রভীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের অফিসে। বিধায়ককে তাঁরা বলেন, আমাদের ভুল বুঝবেন না।আমরা আপনাদের উন্নয়নের সঙ্গেই রয়েছি। আমরা ওইদলে যাইনি। নাড্ডাজি তাঁদের বাড়িতে এসে মুষ্টি ভিক্ষা চাইলেন, তাই ভিক্ষা দিয়েছেন। কেউ ভিক্ষা চাইলে, তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। এছাড়া আর অন্য কোনও ব্যাপার নেই। তবে বিধায়কের কাছে রুম্পার না পৌছানোর কারণ হিসেবে বাকি ৪ জন অবশ্য কিছুই জানাতে পারেননি। রুম্পা কেন বিধায়কের কাছে গেলেন না, তানিয়ে জল্পনা অবশ্য রয়েই গিয়েছে।

- Advertisement -

একগুচ্ছ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে শনিবার পূর্ব বর্ধমানে এসেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। কৃষক দরদি ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য ওইদিন কাটোয়ার জগদানন্দপুর নিবাসী পাঁচ মণ্ডল পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মুষ্টি ভিক্ষা সংগ্রহ করে, ‘কৃষক সুরক্ষা অভিযানের’ সূচনা করেন। পরে, জগদানন্দপুরের মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন নাড্ডাজি। মুষ্টি ভিক্ষা দাতারা পদ্ম শিবিরের লোক বলে, ওই দিন দাবিও করেছিলেন কাটোয়ার বিজেপি নেতৃত্ব। এরপর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই, মুষ্টি ভিক্ষা দাতাদের ভোল বদল চমকে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বকে।

কাটোয়া নিবাসী পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপি সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ দাবি করেছেন, সব জায়গাতেই বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের যেমন ভয় দেখিয়ে তৃণমূলে টানা হচ্ছে। এখানেও তাই হয়েছে। কৃষ্ণ বাবুর বক্তব্য, এইসব করে কিছু হবে না। মুষ্টি ভিক্ষা দাতারা সঠিক সময়েই এর জবাব সঠিক জায়গাতেই দেবেন। বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসবেই।

কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কাউকে ভয় দেখানোর কোনও প্রশ্নই আসে না। ৪ জন মুষ্টি ভিক্ষা দাতা যেচে তাঁর কাছে এসে তাঁদের মতামত জানিয়ে গিয়েছেন। কারণ তারাও জানেন কাটোয়া সহ গোটা বাংলার উন্নয়নের কাণ্ডারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বহিরাগতদের প্রতি আস্থা নেই বলেই মুষ্টি ভিক্ষা দাতারা যেচে তাঁর কাছে এসে, তাঁদের মনের কথা জানিয়ে গিয়েছেন। ওনাদের সাধুবাদ জানাচ্ছি।