তোর্ষা নদীর ভাঙনে উদ্বিগ্ন ফালাকাটার বংশীধরপুরের চার হাজার বাসিন্দা

191

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: ফালাকাটা ব্লকের বংশীধরপুর এলাকায় জলদাপাড়া বনাঞ্চলের পাশে তোর্ষা নদীর ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। ওই এলাকায় থাকা বহু পুরোনো একটি বোল্ডারের বাঁধ ভেঙেছে। তীব্র ভাঙনের জেরে নদীর গতিমুখ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন জল কমতেই ভাঙনের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু গাছ নদী গর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় জলদাপাড়া বন দপ্তরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই ভাঙন এলাকা থেকে কয়েকশো মিটার দূরে অবস্থিত বংশীধরপুরের ঘন জনবসতি। এই নিয়ে প্রায় চার হাজার মানুষ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাঁরা ভাঙন প্রতিরোধের জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

জলদাপাড়া বনাঞ্চল হয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে বয়ে গিয়েছে তোর্ষা নদী। ভাটিতে এই নদীর নাম চরতোর্ষা। ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বংশীধরপুর এলাকাটি জলদাপাড়া পশ্চিম রেঞ্জের ব্যাংডাকি বিটের পাশে। লোকালয় ও জঙ্গলের সীমানা এলাকায় তোর্ষা নদীর ভাঙন কয়েক বছর আগেই শুরু হয়। এজন্য সেখানে বোল্ডার বাঁধও দেওয়া হয়। এবার সেই বাঁধের জায়গাতেই ভাঙন শুরু হয়েছে। পুরোনো বোল্ডার বাঁধ ভেঙে প্রায় ৭০ মিটার লোকালয়ের দিকে এগিয়ে এসেছে নদী। বনাঞ্চলের বেশ কিছু গাছপালা ইতিমধ্যে ভেঙে গিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর গতিমুখ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দ্রুত এই ভাঙন প্রতিরোধের জন্য পদক্ষেপ না করা হলে গোটা বংশীধপুর প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাসিন্দারা ভাঙনের এই ভয়াবহতা দেখে উদ্বিগ্ন। তাঁরা এই ভাঙন প্রতিরোধের জন্য নাগরিক কমিটি গঠন করে প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন।

- Advertisement -

এই নদী ভাঙনের জেরে বংশীধরপুরের নামাপাড়া, মধ্যপাড়া ও টানপাড়ায় বেশি আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নামাপাড়ার অরুন সরকার বলেন, ‘বর্ষা এখনও শেষ হয়নি। তাই আমরা নদী ভাঙন নিয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছি।’ একই বক্তব্য ওই পাড়ার দুলাল দাস, সুরেন্দ্র বিশ্বাস, বিনয় মণ্ডলদের। তাঁরা নাগরিক কমিটি গড়ে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য আন্দোলনে নামার চিন্তাভাবনাও শুরু করেছেন।

মধ্যপাড়ার পরান সরকার, জিতেন দত্ত,সুশান্ত সরকার ও টানপাড়ার পবিত্র মণ্ডল, গোবিন্দ বৈদ্য জানান, এই ভাঙনের জেরে নদীর গতিমুখ বদলে গেলে গোটা বংশীধরপুর প্লাবিত হবে। চার হাজার মানুষ বিপদে পড়বেন। এজন্য তাঁরা নাগরিক কমিটি গঠন করে প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন। কাজ না হলে আন্দোলন করবেন। এদিকে বন দপ্তরও ভাঙন প্রতিরোধের বিষয়ে পদক্ষেপ করার চিন্তাভাবনা করছে। ব্যাংডাকি বিটের ভারপ্রাপ্ত বিট অফিসার অমিত মঙ্গর বলেন, ‘এলাকার মানুষের কাছে শুনে আমি নিজে গিয়ে ওই নদী ভাঙন দেখে এসেছি। বিষয়টি দপ্তরের উপরমহলে জানাব।’

এই বিষয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের কৃষি, সেচ ও সমবায় দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ ফালাকাটার সন্তোষ বর্মন বলেন, ‘এই বিষয়ে দ্রত পদক্ষেপ করা হবে। আমি জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানাচ্ছি।’