রাঙ্গালিবাজনা : মাদারিহাট- বীরপাড়া ব্লকের রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর শিশুবাড়িতে মালঙ্গিঝোরার ডানহাতি সেচনালার পাড়বাঁধ বছর দেড়েক আগে ভেঙে গিয়েছিল। তারপর থেকে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর শিশুবাড়ি, ভগতপাড়া, দক্ষিণ শিশুবাড়ির পশ্চিমাংশ ও ফালাকাটা ব্লকের জটেশ্বর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কড়াইবাড়ি গ্রামের কয়েকশো কৃষক সেচের জন্য প্রয়োজনীয় জল পাচ্ছেন না। সেচনালাটি শুকিয়ে যাওয়ায় ঝোপঝাড়ে ঢেকে গিয়েছে। কেউ কেউ ঝোপঝাড় সাফাই করে শীতের মরশুমি শাক-সবজি চাষ করেছেন শুকনো নালায়। উত্তর শিশুবাড়ি এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা নীলিমা কার্জি বলেন, চারটি গ্রামের প্রায় দেড় হাজার বিঘা জমিতে সেচের জল মিলছে না।

মালঙ্গিঝোরার ডানহাতি সেচখালটি ভগতপাড়া, উত্তর শিশুবাড়ি, দক্ষিণ শিশুবাড়ির পশ্চিমাংশ হয়ে ফালাকাটা ব্লকের জটেশ্বর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কড়াইবাড়ি গ্রামের ভেতর দিয়ে গ্যারগান্ডা নদীতে গিয়ে পড়েছে। আবার, মালঙ্গির মূল জলধারাটি দক্ষিণ শিশুবাড়ি ও আমবাড়ি গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ডানহাতি সেচখালের পাড়বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর কৃষিজমি ভেঙে জলের ধারা একটি নতুন গতিপথ তৈরি করে নিয়েছে। এই নতুন গতিপথ দিয়ে সেচনালার জল আবার গিয়ে পড়ছে মালঙ্গিঝোরার মূল জলধারায়। ভগতপাড়ার বাসিন্দা সুরেন ওরাওঁ, হাসন্দা কার্জি, মথুরাম কার্জি, কালীচরণ কার্জিদের অভিযোগ, সেচনালার পাড়বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ধান চাষে তাঁদের লোকসান হচ্ছে। ভগতপাড়ার ডাবলা কার্জি, প্রকাশ ভগত, দক্ষিণ শিশুবাড়ির সোনারাম ওরাওঁ, গোপাল ওরাওঁ, কড়াইবাড়ির চন্দ্রবাহান ওরাওঁ, রামবিলাস ওরাওঁদের বক্তব্য, পাড়বাঁধ পুনর্নির্মিত না হলে এলাকায় কৃষির হাল ফিরবে না।

- Advertisement -

রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানানো হয়েছে, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য নীলিমা কার্জি ও পার্বতী ছেত্রীর তত্ত্বাবধানে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে মাটি দিয়ে পাড়বাঁধটি মেরামতের কাজ করা হয়েছে। তবে নীলিমা কার্জি নিজেই বলেন, মাটির পাড়বাঁধ আদৌ টিকবে কি না তা নিয়ে সংশয় আছে। জেলা পরিষদের স্থানীয় সদস্যাকে বোল্ডারের পাড়বাঁধ তৈরির দাবি জানানো হয়েছে। সম্প্রতি জনসংযোগ কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মালঙ্গিঝোরার ভাঙা সেচবাঁধটি পুনর্নির্মাণের দাবি প্রশাসনের কর্তাদের কাছে জানান। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের স্থানীয় সদস্যা আশা নার্জিনারি বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা পরিষদে আলোচনা করা হয়েছে। ফান্ড পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।