অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা না থাকায় বিপাকে চার গ্রাম পঞ্চায়েত

গৌতম সরকার, বারবিশা : বারবিশার আশপাশের ৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতে ৬০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। সেখানে রয়েছে একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। অথচ এই এলাকায় কোনও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা না থাকায় বাসিন্দারা বিপাকে পড়েছেন। অ্যম্বুল্যান্সের অভাবে মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছে। তাই সরকারিভাবে অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালুর দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

কুমারগ্রাম ব্লকের ভল্কা বারবিশা ১ ও ২, চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বারবিশা লাগোয়া কোচবিহার জেলার জোড়াই এলাকার বাসিন্দারা চিকিৎসা পরিষেবার জন্য কামাখ্যাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল এবং বারবিশা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা না থাকায় সংকটজনক রোগী, দুর্ঘটনায় আহত এবং অন্ত্বসত্তাদের হাসপাতালে পৌঁছানো নিয়ে রোগীর পরিবারের সদস্যদের সমস্যায় পড়তে হয়। বেসরকারি ছোট গাড়িতে বেশি ভাড়া গুনে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য হন তাঁরা। রাতে সমস্যা আরও বেশি হয়। বাসিন্দারা জানান, পাঁচ বছর আগে বারবিশার লায়ন্স ক্লাব এবং বিবেকানন্দ ক্লাবের অ্যাম্বুল্যান্স দুটি ন্যূনতম ভাড়ায় পরিষেবা দিত। কিন্তু দুটি ক্লাবের অ্যাম্বুল্যান্স খারাপ হয়ে যাওয়ায় পর থেকে এলাকায় আর কোনও অ্যাম্বুল্যান্স নেই। পরিষেবা পেতে হলে ১৫ কিমি দূরবর্তী কামাখ্যাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্সের ওপর নির্ভর করতে হয়।

- Advertisement -

বারবিশা লায়ন্স ক্লাবের সম্পাদক রতন পণ্ডিত বলেন, পাঁচ বছর আগে অ্যাম্বুল্যান্স খারাপ হয়ে যায়। তাই পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বারবিশার বাসিন্দা দেবাশিস ঘোষ বলেন, বারবিশা এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা নেই। সরকারিভাবে এলাকায় অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালু করতে প্রশাসনের পদক্ষেপ করা উচিত। বারবিশা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি প্রভাসরঞ্জন দাস বলেন, অ্যাম্বুল্যান্স না থাকায় খুবই সমস্যা হচ্ছে। কোথাও কোনও দুর্ঘটনা হলে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও গাড়ি মেলে না। উপায় না পেয়ে পুলিশের গাড়িতেই আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে। সমস্যাটি জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে। কুমারগ্রামের বিডিও মিহির কর্মকার অ্যাম্বুল্যান্সের বিষয়টি নিয়ে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। কুমারগ্রামের বিধায়ক জেমস কুজুর জানান, বারবিশা এলাকায় অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালুর বিষয়টি চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।