দক্ষিন ২৪ পরগনার বাসিন্দাদের নিয়ে রওনা দিল ১৩টি বাস

623

শিলিগুড়ি, ৯ মেঃ শহরে আটকে থাকা দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসিন্দাদের নিয়ে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের ১৩টি বাস রওনা দিল। টার্মিনাস সুত্রে খবর, ৪৫২ জনকে নিয়ে শনিবার বাসগুলি দক্ষিণ ২৪ পরগণার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। দিনকয়েক আগেই পরিযায়ী শ্রমিকরা মহকুমাশাসকের অফিসে নিজেদের গন্তব্যে ফেরানোর জন্য দরবার করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ যেমন অন্যান্য রাজ্য থেকে গন্তব্যে যাওয়ার পথে শহরে আটকে গিয়েছিলেন, কেউ শহরে কাজ করতে এসে আটকে পড়েন। তাঁদের আবেদন মতই এই উদ্যোগ বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

শিলিগুড়ি মহকুমাশাসক সুমন্ত সহায় জানিয়েছেন, আবেদন হিসাবে জেলাভিত্তিক প্রত্যেককে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামীকাল বাঁকুড়া এবং ২ দিন পর উত্তর ২৪ পরগণার উদ্দেশ্যে গাড়ি ছাড়া হবে। এছাড়াও, অন্য জেলাগুলির উদ্দেশ্যেও ধাপে ধাপে শ্রমিকদের নিয়ে বাস পাঠানো হবে। শিলিগুড়ির ডিভিশনাল ম্যানেজার দীপঙ্কর দত্ত জানান, প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, কালিম্পং জেলা প্রশাসনের তরফ থেকেও সংশ্লিষ্ট জেলায় আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার থেকে পর্যায়ক্রমে এনবিএসটিসির প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাসের মাধ্যমে তাঁদের পাঠাবে বলে জানিয়েছে।

- Advertisement -

উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি। একদিকে যেমন অন্যান্য জেলার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই শহর গুরুত্বপূর্ন মাধ্যম, সেরকম অর্থনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বহু মানুষ কাজের সন্ধানে এই শহরে আসেন। লকডাউনের জেরে আটকে পড়ায় এই সমস্ত মানুষ চূড়ান্ত সমস্যায় পড়েন। লকডাউনের সীমা বাড়ার সঙ্গে তাঁরা আরও সমস্যায় পড়েন। অবশেষে চলতি সপ্তাহে শহরে আটকে পড়া এই সমস্ত মানুষ মহকুমাশাসকের দ্বারস্থ হয়ে বাড়ি ফেরানোর আবেদন জানান। এরপরই শহরে আটকে থাকা দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসিন্দাদের কাছে পুলিশ প্রশাসনের তরফে এদিন টার্মিনাসে আসার জন্য ফোন করা হয়। সেইমতো এদিন বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই পরিযায়ী শ্রমিকরা টার্মিনাসে আসতে শুরু করেন। টার্মিনাস কর্তৃপক্ষের তরফেও এদিন সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এই মানুষরা টার্মিনাসে আসতেই, প্রথমে তাঁদের থার্মাল স্ক্রিনিং করানো হয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নাম নথিভুক্তকরণ হয়। জেলার বিভিন্ন জায়গার নাম হিসেবে আলাদা আলাদা লাইন করানো হয়। পাশাপাশি, এদিন ৫০ সিটের বাসগুলিতে কোথাও ৩০ জন, কোথাও ২৫ জনকে বসানো হয়েছিল।

বাসে উঠে সবারই মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। অজয় দাস জানিয়েছেন, ডেকরেটার্সের কাজে তাঁরা এসেছিলেন। প্রতিবছর এই সময় আসতেন। কিন্তু, এবার যা অভিজ্ঞতা হল, তা যেন আর কারও কোনও দিন না হয়। অশোক সিনহা বলেন, কর্ণাটক থেকে বাড়ি ফেরার পথে এই শহরে আটকে পড়েছিলেন। খুব কষ্ট হয়েছে। এবার বাড়ি ফেরার পালা। এদিন টার্মিনাসে এনবিএসটিসির ঊর্ধতন আধিকারিক ছাড়াও এনবিএসটিসির তৃণমূল সংগঠনের নেতা দিলীপ বিশ্বাস উপস্থিত হয়ে যাত্রীদের সহযোগিতা করেন। বাম সংগঠনের নেতা তুফান ভট্টাচার্যকেও এদিন টার্মিনাসে দেখা গিয়েছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার সহ দিলীপ বাবু ও অন্য যুব নেতাদের এদিন যাত্রীদের হাতে রাতের খাবার তুলে দিতে দেখা গিয়েছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, ‘শহরে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকরা যাতে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছে যেতে পারেন, সে জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’