ইউরো-বিদায় ঘিরে দেশঁর মণ্ডুপাত

বুখারেস্ট : সুইজারল্যান্ডের কাছে হারের জেরে কাঠগড়ায় ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁ।

এবারের ইউরোয় ফ্রান্স প্রথম থেকেই ফেভারিট। তবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সুলভ পারফরনেন্স গ্রুপের কোনও ম্যাচেই পাওয়া যায়নি। প্রথম ম্যাচে সুযোগ কাজে লাগাতে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে, করিম বেঞ্জেমারা। জার্মানরাও একই পথের পথিক হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট পেয়েছিল ফ্রান্স। দ্বিতীয় ম্যাচে হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে কোনওরকমে হার বাঁচানো। পর্তুগালের বিরুদ্ধেও ড্র। অবশ্য বেঞ্জেমার পেনাল্টির সময় রুই প্যাট্রিসিও সতীর্থ ডিফেন্ডার পেপের কথা শুনলে ফ্রান্স এক পয়েন্টও পেত কি না প্রশ্ন রয়েছে। বেঞ্জেমা শট নেওয়ার আগে প্যাট্রিসিওর প্রতি পেপের ইঙ্গিত ছিল, নিজের ডানদিকে ঝাঁপাও। বাস্তবে বেঞ্জেমা সেদিকেই বল মারেন, কিন্তু প্যাট্রিসিও ঝাঁপ দেন বাঁ দিকে।

- Advertisement -

ফরাসি সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ, দলের মধ্যে ইগোর লড়াই ঠেকাতে পারেননি দেশঁ। রাশিয়ায় টিমগেমে ভর করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু এবার ইউরোর প্রথম থেকেই তা একেবারে নিখোঁজ ছিল। প্রতিযোগিতার শুরু থেকে জিরু-এমবাপে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে। সেসময় ঝামেলা মেটানোর পরিবর্তে ঘুরিয়ে জিরুর বিরোধীতা করেন দেশঁ। প্রথম দুম্যাচে দাগ কাটতে পুরোপুরি ব্যর্থ হলেও এমবাপের ওপর ভরসা রেখেছেন। সুইসদের বিরুদ্ধে এমবাপে পেনাল্টি নষ্টের পর এটাই বুমেরাং হয়ে ফিরছে দেশঁর দিকে।

প্রি-কোয়ার্টারে টিম কম্বিনেশন বদল করা নিয়ে দেশঁর সমালোচনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দলকে চার ডিফেন্ডার ফর্মেশনে খেলিয়েছেন তিনি। রাশিয়া বিশ্বকাপ বা এবার ইউরোর গ্রুপ পর্যায়ে এই ছক ছিল। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে হঠাৎ করেই তিন সেন্টারব্যাকে দল নামালেন। এই দলে কার্ট জুমা ছাড়া কোনও ডিফেন্ডারেরই নিয়মিত এই ছকে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। ফলে প্রথমার্ধে ডিফেন্স সামলাতে ব্যস্ত রইল ফ্রান্স।

আবার দ্বিতীয়ার্ধে সেন্টারব্যাক ক্লেমেট লেংলেকে তুলে মিডিও কিংসলে কোমানকে নামান দেশঁ। উইং ব্যাক বেঞ্জামিন পাভার্ডকে রাফায়েল ভারানে-প্রেস্নেল কিম্পেম্বের পাশে নিয়ে এলেও মানিয়ে নিতে পারেননি তিনি। ফলে ফ্রান্সের আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়লেও ডিফেন্স কিছুটা নড়বড়ে হয়ে যায়। যার সুবিধা শেষদিকে পেলেন সুইস ফরোয়ার্ডরা।