দেশঁর মাথাব্যথা চোট আর কার্ড

বুখারেস্ট : পৃথিবীর তিনভাগ জল, বাকিটা এনগোলো কান্তের।

ম্যাচে যেখানে বল, সেখানেই তিনি। তাই ফরাসি মিডফিল্ডারকে ভালোবেসে এই কথা বলে ফুটবলপ্রেমীরা। চলতি ইউরোয় সবচেয়ে আলোচিত ফুটবলারদের মধ্যে তিনি অন্যতম। মাঝমাঠের এই ফুটবলার আক্রমণ ও রক্ষণ- দুক্ষেত্রেই সমানভাবে অংশ নেন। সতীর্থ ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানের মূল্যায়ণ, সবাই এনগোলোকে ভালোবাসে। ও দুর্দান্ত সতীর্থ, দারুণ মানুষ। মাঠের বাইরে চুপচাপ থাকতে ভালোবাসে। আবার মাঠেও উদারতা দেখায়। বিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে আমাদের ফরোয়ার্ডদের দেওয়াই ওর লক্ষ্য। কোচ দিদিয়ের দেশঁর কথায়, ও ব্যালন ডিঅর পাওয়ার যোগ্য।

- Advertisement -

কান্তের চরিত্রের অন্য দিকের কথা ফাঁস করেছেন সতীর্থ পল পোগবা। তিনি বলেন, এনগোলো খুবই বড় মাপের প্রতারক। অবসর সময়ে তাস বা ডার্টস খেলার সময় অথবা মাঠে অনুশীলনের মাঝে সুযোগ বুঝে আমাদের ঠকানোর ক্ষেত্রে এনগোলো বিশেষ পারদর্শী। আবার কখনই নিজের এই কাজের কথা ও স্বীকার করবে না। তবে আমরা ওকে ভালোবাসি। ফুটবলের ইতিহাসে ওর চেয়ে বেশি ভালোবাসা কোনও প্লেয়ার পায়নি। জাতীয় দলে জুটি বেধে খেলা প্রসঙ্গে পলের বক্তব্য, ওর ১৫টা ফুসফুস আছে। নাহলে এভাবে দৌড়ানো সম্ভব নয়। ও পাশে থাকলে কাজ সহজ হয়ে যায়।

তবে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে লড়াইটা ফ্রান্সের জন্য সুইস চকলেটের মতো সুস্বাদু হবে না। দেশঁর মাথায় থাকবে কার্ড আর চোটের জোড়া চাপ। আঁতোয়া গ্রিজম্যান, হুগো লরিস, লুকাস হার্নান্ডেজ, বেঞ্জামিন পাভার্র্ড আর প্রিসনেল কিমপেম্বে আর একটি হলুদ কার্ড দেখলেই সাসপেন্ড হবেন। ফলে রোমানিয়ার রাজধানীতে ন্যাশনাল এরিনায় ম্যাচ জেতার পাশাপাশি এই বিষয়ে নজর রাখতে হবে ফরাসি শিবিরকে। কারণ জিতলে কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া বা স্পেনের চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে ফ্রান্সকে।

তবে ম্যাচ জেতার থেকেও দেশঁর বড় সমস্যা ফুটবলারদের চোট। ওসমানে ডেম্বেলে ইতিমধ্যে ইউরো থেকেই ছিটকে গিয়েছেন। লেফটব্যাক হার্নান্ডেজ এখনও পুরোপুরি ফিট নন। তাঁর পরিবর্ত হিসেবে পর্তুগাল ম্যাচে নামার মিনিট ছয়েক পরেই গুরুতর চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন আরেক লেফটব্যাক লুকাস ডিগনে। মিডফিল্ডার আদ্রিয়ান র‌্যাবিও গোড়ালির চোট নিয়ে খেলছেন। বিড়ম্বনা বাড়িয়ে অনুশীলনে চোট পেয়েছেন মার্কাস থুরাম ও টমাস লেমার। ফলে ৪-৩-১-২ ছক থেকে সরে এসে ৩-৫-২ ছকে দল নামাতে পারেন দেশঁ।