দশ বছরে বাড়ি-গাড়ি জালিয়াতিতে অভিযুক্ত মাধবের

262

খড়িবাড়ি : কৃষি দপ্তরের কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে শয়েশয়ে লোকের টাকা হাতিয়ে গত দশ বছরে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে খড়িবাড়ি জালিয়াতি কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত মাধব সিংহের। মাধবের শৈশবটা অনেকটাই কষ্টের ছিল। বুড়াগঞ্জ হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা। বাবা ভবেন সিংহ কাঠ কাটার কাজ করে বড়জোর ১০০ থেকে ১৫০ টাকা উপার্জন করে কোনওরকমে সংসার চালাতেন। দারিদ্র‌্যের চাপে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে মাধব ১৮ বছর বয়সে কাজের সন্ধানে পাড়ি দেয় হরিয়ানা। সেখানেই জালিয়াতির হাতেখড়ি। প্রতিবেশীরা জানান, বছর পাঁচেক পর মাধব হরিয়ানার এক মহাজনের টাকা নয়ছয় করে বাড়ি ফিরে আসে। তার সন্ধানে হরিয়ানার কিছু লোক এসে খুঁজে চলে যায়। তারপর থেকেই অভিযুক্ত মাধব সিংহের ফুলেফেঁপে ওঠা শুরু। কিছুদিন পর বাড়ির কাজ শুরু করে। ঝাঁ চকচকে পাকা ঘর তৈরি করে। পাশাপাশি কাঁচা চা পাতা বাজার থেকে কিনে চা ফ্যাক্টরিতে বিক্রির ব্যবসা শুরু করে অভিযুক্ত। এই ব্যবসাতেও তার জালিয়াতি ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দুয়েক আগে জালিয়াতির অভিযোগে কিছুদিনের হাজতবাস করে মাধব। ইতিমধ্যেই জালিয়াতির টাকায় ধীরে ধীরে মোটর সাইকেল, চার চাকার গাড়ি ও ট্র‌্যাক্টর কেনে। বর্তমানে বিভিন্ন মিল থেকে ধানের তুষ কিনে বিভিন্ন মুরগির ফার্ম ও পেপার মিলে বিক্রির নতুন ব্যবসা শুরু করে সে। অসৎ মিল মালিক, ব্যাংক ও খাদ্য দপ্তরের কর্মীদের একাংশের সঙ্গে যোগসাজশ করে জালিয়াতির নতুন ফাঁদ পাতে মাধব সিংহ।

প্রতারকচক্রটি খড়িবাড়ি ব্লকের বুড়াগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আধার কার্ড, ভোটের ফোটো, প্যানকার্ড সংগ্রহ করত। তাদের না জানিয়ে প্রতারকরা ব্যাংকর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে খুলেছিল অ্যাকাউন্ট। গরিব কৃষকদের বলা হত, কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি অনুদানের টাকা দেওয়া হবে। প্রতারকচক্রটি সাধারণ মানুষের নামে  সরকারি ধান বিক্রয়কেন্দ্রে সহায়কমূল্যে ধান বিক্রি করে এটিএমের মাধ্যমে সরাসরি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিত। গ্রাহক কিছুই জানতে পারত না। অভিযোগের ভিত্তিতে মাধব সিংহকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তের জন্য পাঁচদিনের জন্য পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়। পুলিশি তদন্তে তিনটি ব্যাংকের নাম উঠে এসেছে।

- Advertisement -

 খড়িবাড়ি ব্লক কৃষি দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত মাধব সিংহ কৃষি দপ্তরের কর্মী নয়। এ বিষয়ে ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা বলেন, মাধব সিংহ বলে খড়িবাড়ি ব্লকে কৃষি দপ্তরের কোনও কর্মী নেই। এছাড়া কৃষিঋণ শুধুমাত্র খড়িবাড়ি ব্লকের অন্তর্ভুক্ত ব্যাংকগুলিকে দেওযার জন্য সুপারিশ করা হয়। ঋণ মঞ্জুরের আগে উপভোক্তাকে দপ্তরে সশরীরে হাজির হতে হয়।