সমবায় ব্যাঙ্কের আড়ালে প্রতারণা, গা ঢাকা দিল এজেন্ট

281

রায়গঞ্জ: সমবায় ব্যাঙ্কে টাকা জমানোর নাম করে ফুটপাতের ব্যবসায়ী ও পরিচালিকাদের থেকে সংগৃহীত টাকা নিয়ে চম্পট দিল এক এজেন্ট। করোনা আবহে অসহায় গ্রাহক ব্যবসায়ী ও পরিচালিকারা চরম বিপাকে। ঘটনাটি ঘটেছে, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের এনবিএসটিসি বাসষ্ট্যান্ড এলাকায়।

প্রতারিত গ্রাহকদের অভিযোগ, ‘সমবায় ব্যাঙ্কে টাকা জমা দেবে বলে রায়গঞ্জের রাসবিহারী মার্কেটের বাসিন্দা রজত সাহা নামে এক এজেন্ট আমাদের কাছ থেকে দৈনিক পঞ্চাশ কিংবা একশো টাকা নিয়ে যেত। আর খাতায় টাকার অঙ্ক লিখে দিত। কোন রসিদ দিত না। তিন বছর ধরে টাকা দিয়েছি। কিন্তু দুই দিন ধরে আর আসছে না। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম রায়গঞ্জের রাসবিহারি মার্কেটের বাড়িতেও নেই ওই এজেন্ট রজত সাহা। বাড়ি থেকে পালিয়েছে অভিযুক্ত রজত সাহা সহ তাঁর স্ত্রী ও সন্তান।‘

- Advertisement -

সরকারি বাসষ্ট্যান্ডের সামনে পানের দোকানদার রাজেশ রায় কিংবা ফল ব্যবসায়ী বিধবা রেপতি দাস এবং বাসে বাসে পেয়ারা বিক্রেতা সমীর সাহা মানুষের বাড়িতে পরিচালিকার কাজ করেন শিউলি দাস, টোটো চালক বাপ্পা মহন্ত, লরি চালক দীপঙ্কর সরকারদের অভিযোগ, ‘বিশ্বাস করে পরিশ্রমের রোজগারের টাকা সঞ্চয়ের জন্য ওই এজেন্টের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি আমাদের মতো গরিব দোকানদারদের প্রতারণা করল ওই এজেন্ট। তবে প্রতারণার শিকার গ্রাহকদের বক্তব্য, ওয়ার্ডের কাউন্সিলদের অভিযোগ করেছি। তারপর রায়গঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছি। কিন্তু তাতে কি টাকা ফেরত পাব।‘

প্রতারক এজেন্ট যে এলাকার বাসিন্দা, সেই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তপন দাস বলেন, ‘গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে এক এজেন্ট, তা শুনেছি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশকে বলা হয়েছে বিষয়টি দেখতে। গতকাল রাতে অভিযুক্ত রজত সাহার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।‘

স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন প্রতারিত গ্রাহকরা স্থানীয় কাউন্সিলরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অবিলম্বে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার দাবি করেছেন প্রতারনার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ শহরের রাজিব কলোনি, শ্মশান কলোনি, বন্দর, রাসবিহারী মার্কেট এলাকার প্রায় দশ হাজার বাসিন্দাদের কাছে থেকে ডেইলি কালেকশনের প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে অভিযুক্ত রজত সাহা।

শ্মশান কলোনির বাসিন্দা শুভঙ্কর দত্ত বলেন, ‘রাজিব কলোনি শ্মশান কলোনি এলাকার অনেক বাসিন্দা মানুষের বাড়িতে কাজ করে জনমজুরি করে দিন আনে দিন খায়। তারা রজত সাহা নামে এক ব্যক্তির কাছে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে রাখত রজত বাবুর কাছে। এই টাকাটা প্রত্যেক বছর বছর ম্যাচুরিটি হয় ‌ফেরত পায়। এই বছরেও অনেকের টাকা ম্যাচুরিটি হয়েছে কিন্তু তিনি দিনদুয়েক থেকে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান। কেউই তাকে খুঁজে পাচ্ছেন না। এখন অসহায় দিন আনা দিন খাওয়া মানুষেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অনেকের অনুমান তিনি হয়ত টাকাগুলি আইপিএলে হেরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে।‘

শুভঙ্করবাবু এদিন বলেন, ‘করোনা আবহে আর্থিক অবস্থা এমনিতেই খুব খারাপ। যদি সত্যি সত্যি রজত বাবু সেই টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তাহলে করোনা আবহে পুজোর মধ্যে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলি আরও অসহায় হয়ে পড়বে। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে রজত সাহা নামে ওই ব্যক্তি। আমরা চাইছি ওই অভিযুক্তকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গ্রেপ্তার করা হোক। প্রশাসন মারফত কিংবা ব্যাংক মারফত আমাদের টাকা আমাদের কাছে ফিরে আসে। এটুকুই চাইছি।‘

দীনেশ সরকার নামে রাজিব কলোনির আরেক বাসিন্দার বক্তব্য, ‘আমি ৩৬ হাজার টাকা জমা করেছিলাম। তারমধ্যে থেকে ১০ হাজার টাকা আমাকে ফেরত দিয়েছে ২৬ হাজার টাকা আমি পাব। আমাদের সমস্ত টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে ওই ব্যক্তি। আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। আমরা চাইছি ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হোক এবং গরীব মানুষের টাকাগুলো সরকারের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।‘

রাসবিহারী এলাকার বাসিন্দা সুমি সাহা বলেন, ‘শুধু আমাদের তিনটি এলাকায় নয় রায়গঞ্জ শহরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সঙ্গেই প্রতারণা করেছেন অভিযুক্ত রজত সাহা। ওর নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। আমরা চাই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আমাদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করুক। আমরা দিদিকে বল থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হয়েছি।‘

পাশাপাশি, বন্দর সাহাপাড়ার বাসিন্দা শিউলি সাহা বলেন, ‘আমি মোট ১২ হাজার টাকা জমা করেছিলাম। আমাকে একটা রশিদ দিয়েছে সেটাও জাল রশিদ। থানায় সেই রশিদ নিয়ে গিয়ে অভিযোগ করেছি। আমরা চাই সেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আমাদের মতন গরিব মানুষের টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করুক।‘

অন্যদিকে, রায়গঞ্জ পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানান, নির্দিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখে অবশ্য তদন্ত করা হবে।

তৃণমূলের কাউন্সিলর তপন দাস বলেন, ‘অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে। যে সমস্ত বাসিন্দারা প্রতারিত হয়েছে তাঁরা অধিকাংশই আমার ওয়ার্ডের।‘