সরকারি প্রকল্পের নামে উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ

191

বর্ধমান: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বণ্টন কিংবা অন্য কোনও অছিলায় গরিব মানুষদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা যাবে না। নিজের দলের নেতা ও কর্মীদের উদ্দেশ্যে এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নিষেধ সত্ত্বেও তোলাবাজিতে লাগাম টানার কোনও সদিচ্ছা দেখাতে চাইছেন না পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের বেরুগ্রাম অঞ্চলের তৃণমূল কর্মীরা। হুমকি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার একাধিক উপভোক্তার কাছ থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল বেরুগ্রাম অঞ্চলের তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন বেরুগ্রাম অঞ্চলের বাসিন্দারা। তোলাবাজির বিষয়টি নিয়ে বিডিওর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা।

জামালপুর ব্লকের বেরুগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম শম্ভুপুর। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে এই গ্রামের বেশকিছু গরিব পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর অনুমোদন করে প্রশাসন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাড়ি তৈরির টাকা উপভোক্তাদের নামে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। প্রথম কিস্তিতে ৬০ হাজার, দ্বিতীয় কিস্তিতে ৫০ হাজার ও তৃতীয় কিস্তিতে ১০ হাজার টাকা উপভোক্তাদের পাওয়ার কথা। এছাড়াও বাড়ি তৈরির মজুরি বাবাদ উপভোক্তাদের পঞ্চায়েত থেকে এনআরইজিএস প্রকল্পে ৯০ দিনের কাজের মজুরি অর্থ পাওয়ার সংস্থান রয়েছে।

- Advertisement -

শম্ভুপুর গ্রামের উপভোক্তারা বলেন, ‘বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার খবর আগাম পৌঁছে যায় স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের কাছে। এরপরেই ওই টাকা থেকে মোটা অংকের টাকা ভাগ দিতে হবে বলে দাবিও করেন ওই তৃণমূল কর্মীরা।

বিডিওকে লিখিত অভিযোগে শম্ভুপুর গ্রামের উপভোক্তারা জানিয়েছেন, প্রথম কিস্তির টাকা ঢোকার পরেই শম্ভুপুর গ্রামের ১ ও ২ নম্বর সংসদের কয়েকজন তৃণমূল কর্মী তাঁদের বাড়িতে এসে টাকার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। কারও কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। আবার কারও কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। ওই তৃণমূল কর্মীরা হুমকি দিয়ে চাপ সৃষ্টি করে তাঁদের কারও কাছে ১০ হাজার, আবার কারও কাছে ৫ হাজার টাকা আদায় করে নিয়ে গিয়েছে। বুধবার কয়েকজন উপভোক্তা আবার জানালেন, গ্রামের ওই তৃণমূল কর্মীরা চাপ সৃষ্টি করে এলাকার প্রায় ২৮-৩০ জন উপভোক্তার কাছ থেকে টাকা আদায় করেছেন। কারও কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে নিয়ে গিয়েছে। তৃণমূল কর্মীরা টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় বাড়ি তৈরির কাজ থমকে গিয়েছে বলে উপভোক্তারা বিডিওকে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য বিডির কাছে আর্জি জানিয়েছেন।

তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে এক উপভোক্তা জানান, গ্রামের কয়েকজন যখন তোলাবাজির বিষয়টি বিডিওকে জানাতে যাচ্ছিলেন তখন তাঁদের পথ আটকায় ওই তৃণমূল কর্মীরা। এমনকি, মারধরও করা হয়। বিডিও অফিসে যেতে দেওয়া হয়নি তাঁদের। পরে কোনওরকমে তাঁরা বিডিওর কাছে অভিযোগ জানিয়ে সুবিচারের আর্জি জানিয়েছেন।

এদিকে, সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা এদিন শম্ভুপুর গ্রামে পৌঁছাতেই ওই তৃণমূল কর্মীদের একাংশ গা ঢাকা দেন। শুধুমাত্র মানিক রুইদাসের দেখা পাওয়া যায়। চারজন উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকারও করেন। তিনি তিনজনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে এবং একজনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন বলে জানান। মানিকবাবু জানান, তৃণমূল পার্টির তরফে তাঁরা কয়েকজন কর্মী সিদ্ধান্ত নিয়েই টাকা আদায় করেছেন। বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য শেখ সাহাবুদ্দিন এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এদিন সর্বতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যান বলে অভিযোগ। তবে তাঁকে অবশ্য নিরাশই হতে হয়।

বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হলে যাঁরা টাকা নিয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে।’