অর্থমন্ত্রকের নথি জাল করে প্রতারণা কোচবিহারে

167

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : এবার অর্থমন্ত্রকের নথি জাল করে বড়সড়ো প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে এল কোচবিহারে। এক্ষেত্রে অভিযুক্ত কোচবিহার বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আইনজীবী জয়ন্ত অধিকারী। অর্থমন্ত্রক এবং একাধিক ব্যাংকের ভুয়ো নথি তৈরি করে তিন কোটি টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এক চা বাগান মালিকের কাছ থেকে ৩৯ লক্ষেরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যেই ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, আইনজীবী বলেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে না পুলিশ। কোচবিহারের পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

মেখলিগঞ্জের কুচলিবাড়ির সাধনচন্দ্র দত্ত টি কোম্পানির ডিরেক্টর শর্মিষ্ঠা দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতেই জয়ন্ত অধিকারীর বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয়েছে। শর্মিষ্ঠা দত্ত জানিয়েছেন, চা বাগান চালাতে আর্থিক সংকটে পড়ায় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা। জয়ন্ত অধিকারী তাঁদের সহজে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সেইমতো ২০১৮ সালের ১৪ আগস্ট কেরালার ক্যাথোলিক সাইরিয়ান ব্যাংকের নামে তাঁর সংস্থার জন্য ৩ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদনের একটি চিঠি আসে। ঋণের প্রসেসিং ফি বাবদ আইনজীবী তাঁর কাছ থেকে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা নেন। এছাড়া ব্যাংকের আধিকারিকদের পরিদর্শনের ব্যবস্থাপনার নাম করে ওই আইনজীবী প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা নেন। যদিও কেউ পরিদর্শনে আসেননি।

- Advertisement -

অভিযোগপত্রে বাগান মালিক লিখেছেন, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঋণের জন্য কেরলের ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট বাবদ ১৫ লক্ষ টাকা এবং সিকিউরিটি মানি বাবদ পাঁচ লক্ষ টাকা তাঁদের থেকে নিয়েছিলেন অভিযুক্ত আইনজীবী। কয়েকদিন পরেই তাঁকে ডেকে আইনজীবী জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ঋণের আবেদন খারিজ করেছে। তবে তাঁর সঙ্গে অর্থমন্ত্রকের ভালো যোগাযোগ আছে। সেখান থেকেই তিনি ঋণ পাইয়ে দেবেন।

২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শর্মিষ্ঠা দত্তের বাড়িতে অর্থমন্ত্রকের একটি চিঠি পৌঁছায়। সেখানে তিনটি চেক নম্বর ছিল। প্রত্যেকটি চেকে টাকার অঙ্ক ছিল এক কোটি টাকা। অভিযোগ, আয়কর বাবদ তাঁরা জয়ন্ত অধিকারীকে আরও ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। তারপরও চেক না আসায় ওই আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি আর ফোন ধরেননি।

শর্মিষ্ঠা দত্ত বলেন, দফায় দফায় আমাদের কাছ থেকে মোট ৩৯ লক্ষ ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন জয়ন্ত অধিকারী। অর্থমন্ত্রকে যোগাযোগ করে জানতে পারি, আমাদের যেসব কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে সবই ভুয়ো। প্রথমে পুলিশ আমাদের অভিযোগ নিতে চায়নি। পরে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হই। আদালতের নির্দেশে মামলা শুরু হলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। শর্মিষ্ঠা দত্তের আইনজীবী সন্দীপ মণ্ডল বলেন, অর্থমন্ত্রকেও আমরা বিষয়টি জানিয়েছি।

অনেক চেষ্টা করেও জয়ন্ত অধিকারীর বক্তব্য জানা যায়নি। তাঁর একাধিক ফোন নম্বরে দুদিন ধরে টানা চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। মেসেজ পাঠালেও উত্তর দেননি। কোচবিহার বার অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তরে গেলেও তাঁর দেখা মেলেনি। অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অশোক ঘোষের বক্তব্য, জয়ন্ত অধিকারী সদস্যপদ নিয়ে রাখলেও নিয়মিত আদালতে আসেন না। তবে তিনি দাবি করেছেন যে, বার অ্যাসোসিয়েশনের কাছে জয়ন্তবাবুর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আসেনি।