বিড়ি শ্রমিকদের লেবার কার্ড দেওয়ার নামে প্রতারণা

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : রায়গঞ্জ ব্লকের রূপাহারের বিভিন্ন গ্রামে মহিলা বিড়ি শ্রমিকদের লেবার কার্ড ও বিভিন্ন সরকারি সুযোগসুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা তুলছে একটি দালালচক্র। অভিযোগ, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ এই চক্রে জড়িত রয়েছে। যদিও তা অস্বীকার করেছেন রায়গঞ্জ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মানসকুমার ঘোষ। পাশাপাশি তাঁর দাবি, বিড়ি শ্রমিকরা প্রত্যেকেই সরকারি সুযোগসুবিধা পেয়েছেন। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে কার্ড তৈরি করে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় কেউ কোনও সুযোগসুবিধা পাননি। বর্তমানে ওই পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে রয়েছে। তারাই ঘর দেওয়ার নাম করে টাকা তুলছে। যদিও বিরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির উপপ্রধান নীলেশ্বর বর্মন বলেন, তৃণমূল মিথ্যা অভিযোগ করছে। আমাদের কেউই ঘর দেওয়ার নাম করে টাকা নেয়নি।

একাংশ বিড়ি শ্রমিকের অভিযোগ, ২০ থেকে ২৫ বছর আগে লেবার কার্ড তৈরি করলেও তাঁরা সরকারি সুযোগসুবিধা পাচ্ছেন না। অথচ কোনও সময় সরকারি আবাস, আবার কোনও সময় লোনের টোপ দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যাচ্ছে চক্রের সদস্যরা। যাঁদের কার্ড নেই তাঁদের কার্ড তৈরি করে দেওয়ার জন্য কখনও ৩০০, আবার কখনও ৫০০ টাকা নিয়ে গিয়েছেন নেতারা। রূপাহার ও উত্তর রূপাহারের তেঁতুলতলা, বাগানবাড়ি, কলোনি এলাকার প্রায় ২০০ মহিলা বিড়ি বেঁধে সংসার চালান। প্রতিদিন হাজার বিড়ি বাঁধলে তাঁদের জোটে ১০০ টাকা। লকডাউনের জন্য প্রায় তিন থেকে চার মাস তাঁদের সেভাবে কাজ ছিল না। পুজোর অনেক আগেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কাজ শুরু হলেও সেভাবে বরাত নেই। তাই নামমাত্র কাজ শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

বুলি রায় নামে এক মহিলা বিড়ি শ্রমিক বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে বিড়ি বাঁধছি। আমার কার্ড আছে। কিন্তু কোনও সরকারি সুবিধা পাই না। অথচ ভোটের সময় অনেক কিছু বলা হয়। আমাদের মিটিং-মিছিলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর আরও অভিযোগ, মাঝেমধ্যে সুযোগসুবিধা দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত কোনও কিছুই পাননি। সুমিত্রাদেবী রায় নামে আরও একজন বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে বিড়ি বাঁধছি। অথচ কিছুই পাইনি। নেতারা এসে আমাদের সঙ্গে মিটিং করে টাকা নিয়ে যায়, এরপর কিছুই মেলে না। বুলবুলি রায় নামে এক মহিলা বিড়ি শ্রমিক বলেন, কার্ড করে দেওয়ার নামে প্রথমে ৩০০ টাকা, পরে আরও ৫০০ টাকা নিয়ে গিয়েছে দালালচক্রের লোকেরা। কিন্তু এখনও কার্ড পাইনি। টাকা না দিলে কোনও কিছুই পাব না, তাই টাকা দিয়েছি।

পার্বতী রায় নামে আরও একজনের কথায়, ঘর দেওয়ার নাম করে প্রথমে ৫০০, পরে ৩৫০ টাকা নিয়ে গিয়েছে ওরা। বাড়ির জায়গা আমার নামে রেজিস্ট্রি করে নিতে হবে বলে জানালে আমি তা অস্বীকার করি। এরপর থেকে আর তাদের দেখা মিলছে না। তেঁতুলতলার মহিলা বিড়ি শ্রমিক রীতা নন্দী, খুকি রায় সহ প্রত্যেকের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিড়ি বাঁধলেও কোনও সুযোগসুবিধা পাচ্ছেন না। ভোটের সময় শুধু প্রতিশ্রুতি মিলেছে।