রায়গঞ্জ মেডিকেলে চাকরির নামে প্রতারণা

110

রায়গঞ্জ : সর্ষের মধ্যেই ভূত। চাকরি দেওয়ার প্রতারণা চক্রে পুলিশকর্মীও। সঙ্গে রয়েছে স্বঘোষিত তৃণমূল নেতা সহ আরও অনেকে। এনিয়ে শনিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ন‘জন প্রতারিত। এই ঘটনায় আবারও নাম জড়িয়েছে রায়গঞ্জ মেডিকেলের। সেখানে চাকরির টোপ দিয়ে বেকারদের প্রতারণা করা হত বলে অভিযোগ। এনিয়ে অভিযোগ পেয়ে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।

চাকরি প্রতারণা চক্রে এখনও যে সব নাম উঠে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে রায়গঞ্জ থানার অধীনে কর্মরত ভিলেজ পুলিশকর্মী মানিক বর্মন, শাহজাহান আলি, স্বঘোষিত তৃণমূল নেতা সুজিত বর্মন, কৃষ্ণা বর্মন ও দীপঙ্কর বর্মন। এদের কারও বাড়ি ইটাহারে, কারও বাড়ি রায়গঞ্জ থানার শীতগ্রামে, কেউ আবার হেমতাবাদের বাসিন্দা। রায়গঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে এরা চাকরি দেওয়ার অফিস খুলেছিল। চাকরি দেওয়ার নামে তারা ২৩৮ জন যুবক-যুবতীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করে বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকরি দেওয়ার নামে মহম্মদ খুবাইল ইসলামের কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা, ইসরাদ আলির কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা, সুদীপ বিশ্বাসের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা, লক্ষ্মী দেবনাথের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা, সামেদা খাতুনের কাছ থেকে দুলক্ষ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছে রায়গঞ্জ থানার ভিলেজ পুলিশকর্মী মানিক বর্মন। এভাবে ২৩৮ জন যুবক-যুবতীর কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হরফ করেছে এই প্রতারণা চক্র। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রায়গঞ্জ মেডিকেলের কয়েকজন কর্মীও। এই চক্রটি মূলত মেডিকেলে কাজ দেওয়ার নামেই টাকা আদায় করেছে।

তৃণমূলের জেলা নেতা তপন নাগ বলেন, রায়গঞ্জ মেডিকেলে দীর্ঘদিন থেকেই সুষ্ঠু পরিষেবা মিলছে না। সেটা সবাই জানেন। সেখানে ঘুঘুর বাসা তৈরি হয়েছিল। তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ঘাত ও প্রতিঘাতের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়েছে। এই ঘটনাও তারই একটি দৃষ্টান্ত। আমরা এর আগে মেডিকেলকে অনেকটাই দালালমুক্ত করে দিয়েছিলাম। এবার যে ঘটনা ঘটেছে, যারা প্রতারণা করেছে, তাদেরও শেষ দেখে ছাড়ব। গ্রামের অসহায় ছেলেমেয়েরা চাকরির আশায় নিজেদের ভিটেমাটি বিক্রি করে টাকা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেছেন, কোনও প্রতিষ্ঠানে কোনও দালালচক্র বরদাস্ত করা হবে না। তারপরেও এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। এই দালাল চক্রকে ধরতে আমাদের সাধ্যমতো যা যা করার তাই করব।

প্রতারিত সামেদা খাতুনের বক্তব্য, জমি বিক্রি করে বাবা প্রায় তিন লক্ষ টাকা মানিক বর্মন নামে এক ভিলেজ পুলিশের হাতে দেয়। পরে মেডিকেলের কোভিড ওয়ার্ডে আমাদের কাজ দেওয়া হয়। কয়েদিন আগে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ জানায়, আমাদের আর কাজ করতে হবে না। আমাদের মেডিকেল থেকে চলে যেতে বলা হয়।

বিপুল দেবশর্মা নামে আরেক প্রতারিত বলেন, মায়ের সোনা আর জমি বন্ধক রেখে হেমতাবাদের বাসিন্দা কৃষ্ণ বর্মন ও সুজিত বর্মনকে দুলক্ষ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। ওরা জানিয়েছিল, আমাদের রায়গঞ্জ মেডিকেলে গ্রুপ ডি পদে স্থায়ী চাকরি দেবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও চাকরি পাইনি। একই কথা বিনুবালা বর্মন, লক্ষ্মী দেবনাথ, ইসরাদ আলিদেরও।

ন’জনের কাছ থেকে প্রতারণার এমন অভিযোগ পেয়ে রায়গঞ্জ থানার পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে নেমেছে গোয়েন্দা পুলিশও। তদন্তের প্রথম ধাপেই উঠে এসেছে একাধিক প্রভাবশালীর নাম। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশের অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে মেডিকেলের এক পদাধিকারীও জড়িত। যদিও রায়গঞ্জ মেডিকেলের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার বলেন, এবিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। যা বলার অধ্যক্ষ ও এমএসভিপি বলবেন। ওরা আমার কাছে অভিযোগ জানাতে এসেছিল। আমি বলেছি, এটা আমার এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।