মোবাইল ফোনে ঋণের টোপ দিয়ে প্রতারণা জটেশ্বরে

318

শান্ত বর্মন, জটেশ্বর : মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে কিংবা লটারিতে বিজয়ী হওয়ার টোপ দিয়ে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি চক্র সক্রিয় হয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে দুষ্কৃতীর দল এভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ব্যাংক থেকে গ্রাহকের অজান্তে টাকা হাতানোর পর এবার গ্রামাঞ্চলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন প্রতারণাচক্র। কখনও গ্রাহককে অনলাইন শপিংয়ে মোটা টাকা বিজয়ী হওয়ার প্রলোভন, আবার কখনও কাগজপত্র ছাড়াই মোটা টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনও দিচ্ছে  প্রতারণাচক্রটি । যার ফলে মোটা টাকার লোভে প্রতারণাচক্রে পা দিচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। এই চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে নিমেষের মধ্যেই গ্রাম্য এলাকার বহু মানুষের লক্ষ লক্ষ টাকা খোয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রতারণাচক্রের পাতা ফাঁদে পা দিলেও অনেকেরই বুঝতে দেরি হচ্ছে।

একটি মাইক্রোফিনান্স কোম্পানির নাম করে জটেশ্বর-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এক বাসিন্দাকে মোটা টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেওয়া হয়। তারপর ঋণ ফি এবং যাবতীয় কাগজপত্রের জন্য ধাপে ধাপে ওই যুবকের কাছে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।

- Advertisement -

প্রতারণার ফাঁদে পা দেওয়া ওই যুবক চিরঞ্জিত্ বর্মন বলেন, ওই সংস্থা এখনও আমাকে ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছে। সন্দেহ হওয়ায় যে মাইক্রোফাইনান্স কোম্পানির নাম করে ফোন পেয়েছিলাম সেই কোম্পানির শাখায় যোগাযোগ করি। তারা বিষয়টি নিয়ে জানায় যে, এই পদ্ধতিতে কোনও ঋণ তারা দেয় না এবং যে কাগজপত্র দেখানো হয়েছে সেগুলিও অবৈধ। বিষয়টি নিয়ে কী করব বুঝতে পারছি না।

অন্যদিকে, গত ২৯ জানুয়ারি জটেশ্বর বাজারের যুবক মৃন্ময় বর্মন একটি শপিং কোম্পানির নামে পোস্ট অফিস মারফত একটি চিঠি হাতে পান। সেখানে মৃন্ময়বাবু দেখতে পান যে তিনি ছয় লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকার একটি লটারিতে বিজয়ী হয়েছেন। তারপর কোম্পানির তরফে জিএসটি এবং নানা কারণ দেখিয়ে প্রথমে ছয় হাজার চারশো এবং পরে কুড়ি হাজার চারশো টাকা হাতিয়ে নেয় সংস্থার পরিচয় দেওয়া এক কর্মী। পরবর্তীতে তাঁর কাছে আরও প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ মৃন্ময় বর্মনের। পরে বিষয়টি নিয়ে জটেশ্বর পুলিশ ফাঁড়িতেও যান তিনি। তবে তাঁর খোয়া যাওয়া টাকা এখনও ফেরত পাননি তিনি। মৃন্ময়বাবু বলেন, চিঠি পাওয়ার আগে একটি ফোন পেয়েছিলাম, তারপর আমি লটারি জেতার কুপন সহ কাগজপত্র পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাই। তারপর আমার কাছ থেকে ফোন করে মোট ছাব্বিশ হাজার টাকা নেয় তারা। পরে বুঝতে পারি আমি প্রতারণাচক্রের ফাঁদে পা দিয়েছি। তাই বিষয়টি ক্রাইম ব্রাঞ্চে জানাব। একইভাবে গত ৩১ ডিসেম্বর সকাল নাগাদ প্রতারণাচক্রের ফাঁদে পড়ে প্রায় সত্তর হাজার টাকা খুইয়েছেন ফালাকাটা ব্লকের খগেনহাটের বাসিন্দা পেশায় ব্যবসাযী বিনয় দাস। ওইদিন তিনি বুঝতে পারেন তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে প্রায় সত্তর হাজার টাকা তুলে নেয় দুষ্কৃতীরা। যদিও বিষয়টি নিয়ে তিনি আলিপুরদুয়ার ক্রাইম ব্রাঞ্চে লিখিত অভিযোগ দায়ে করেছেন আলিপুরদুয়ার ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিক বিপ্লব লস্কর বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ এলেই খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। তবে দেরি হয়ে গেলে সমস্যা হয়।