স্বাধীনতা সংগ্রামীর স্ত্রীর পেনশন বন্ধ, মমতাকে জানাতে চান রেণুকণা

221

অভিজিৎ ঘোষ, সোনাপুর : স্বামীর স্মৃতিটুকুই আজ তাঁর সম্বল। স্বাধীনতা সংগ্রামীর স্ত্রী হিসাবে যে পেনশন পেতেন রাজ্য সরকার তো তা কবেই বন্ধ করে দিয়েছে। একবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সেকথা জানাতেও চান রেণুকণা ভৌমিক (৯৪)।

দেশজুড়ে তখন স্বাধীনতা আন্দোলন তুঙ্গে। অবিভক্ত বাংলার ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার পাতুয়ার গ্রামের যুবক প্রফুল্ল ভৌমিক সেই আন্দোলনে ভাসলেন। অনুশীলন সমিতি এবং যুগান্তর দলের বিপ্লবীদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাঁদের দলে নাম লেখান যুবক প্রফুল্ল। তখন থেকেই দেশের হয়ে তাঁর লড়াই শুরু। ১৯৩৩ সালে একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারায় মামলা দায়ে হয়। বিচারের পর তাঁকে পাঁচ বছর দীপান্তরের সাজা দিয়ে আন্দামানে সেলুলার জেলে পাঠানো হয়। ১৯৩৮ সালে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে আবার জড়িয়ে পড়েন প্রফুল্ল ভৌমিক। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আলিপুরদুয়ার জেলার পাতলাখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সাহেবপোঁতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি। ১৯৮৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪০ বছর উদযাপনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধি দিল্লি থেকে তাঁকে তাম্রপত্র পাঠিয়ে সম্মান জানান। ১৯৯১ সালের ৩ মার্চ তিনি মারা যান। প্রফুল্ল ভৌমিককে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পেনশনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী রেণুকণাদেবী সেই পেনশন পেতেন। ১৯৯১ সালে ৭৫০ টাকা পেনশন পেতেন তিনি। ২০১১ সালে জানুয়ারি মাসে ৩,২৫০ টাকা শেষবার পেনশন পান তিনি। তারপর দীর্ঘ দশ বছর সেই পেনশন বন্ধ হয়ে রয়েছে। ২০১৫ সালে পরিবার থেকে কলকাতায় অর্থ দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, পেনশন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেও পেনশন আর চালু হয়নি।

- Advertisement -

মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার জেলায় এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেকথা জানার পরই রেণুকণাদেবী একবার তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান। তিনি বলেন, দশ বছর থেকে পেনশন পাচ্ছি না। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেনশন আবার চালু করার জন্য জানাচ্ছি। ওঁর সঙ্গে দেখা করারও ইচ্ছা রয়েছে। পেনশন আবার চালু হলে খুবই উপকার হত। প্রতিবেশীরা বলছেন, রেণুকণাদেবীর পরিবারের দেশের প্রতি অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রাখা উচিত। তাঁর পেনশন বন্ধ হওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আধিকারিকদের বিষয়টি দেখা উচিত। আলিপুরদুয়ার-১ ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক অমরজ্যোতি সরকার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ আমাকে কিছু জানাননি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।