পুসকাসের ঘরের মাঠে ফেভারিট ফ্রান্সই

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : মিউনিখের পর এবার বুদাপেস্ট জয়ে লক্ষ্যে এবার ফ্রান্স। লম্বা সফরে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের মতো দিদিয়ে দেঁশ-র দল পথ হারাবেন বলে অবশ্য কেউই মনে করছেন না। বরং এই ইউরোতে ফরাসিদের পক্ষে বাজি ধরতে রাজি সাধারন সমর্থক থেকে ফুটবল বোদ্ধা সকলেই।

ফরাসি সুগন্ধে গত বিশ্বকাপ থেকেই আমোদিত ফুটবল বিশ্ব। তার উপর প্রথম ম্যাচেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালের কাছে ৩ গোল খাওয়ার মতো লজ্জা। ফলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ারই কথা হাঙ্গেরির। সেখানে জার্মানদের হারিয়ে দ্বিগুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে আসছেন পল পোগবা-করিম বেঞ্জিমারা। ফলে টেনিসের ভাষায়, শনিবাসরীয় সন্ধ্যায় অ্যাডভান্টেজ ফ্রান্স।

- Advertisement -

এবার অবশ্য প্রথম ম্যাচেই এক বিশেষ কারণে সারা বিশ্বের মন জয় করে নিয়েছে হাঙ্গেরি। কোভিড পরবর্তী বিশ্বে এরকম ভিড়ে ঠাসা স্টেডিয়াম এর আগে কখনও দেখা যায়নি। যা দেখা গিয়েছে গত মঙ্গলবার বুদাপেস্টের পুসকাস এরিনায়। তবে এটুকুতেই সম্ভবত এবার সন্তুষ্ট থাকতে হবে হাঙ্গেরিকে। এবারের ইউরোয় গ্রুপ অব ডেথে পড়ে গিয়ে সবথেকে ঝামেলা হয়েছে তাদেরই। যার জেরে প্রথম ম্যাচেই নিজেদের টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত থাকায় দাঁড়ি পড়েছে মার্কো রোসির দলের। যদিও প্রথম ম্যাচেই পুসকাসের দেশ বুঝিয়ে দিয়েছে, ফ্রান্স, জার্মানী, পর্তুগালের মতো সেরাদের সঙ্গে পড়লেও হার মেনে মাঠে নামছে না তারা। বরং রীতিমত যুদ্ধং দেহি মেজাজেই আগের ম্যাচে একটা সময়ে চাপে ফেলে দিয়েছিল রোনাল্ডোদের।

আগের ম্যাচে গোল বাতিল হওয়ায় বেঞ্জিমা এবং কিলিয়ান এমবাপে যে বাড়তি তাগিদ নিয়ে মাঠে নামবেন তা বলাই বাহুল্য। ম্যাট হামেসলের আত্মঘাতী গোলে জয়টা বিশ্বজয়ীদের আত্মসম্মানে আঘাত করতে পারে। আর সেটা হলে ঝামেলা হাঙ্গেরিরই। তবে প্রথম ম্যাচে জয় যেভাবেই এসে থাকুন না কেন, ফরাসিরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা এবার আরও বেশি শক্তিশালী। এত ভারসাম্য দলটার মধ্যে যে দেশঁর দলকে আগাম আন্দাজ করে খেলতে নামলে হালে পানি না পাওয়ারই কথা। হাঙ্গেরির মিডফিল্ডার ড্যানিয়েল গাজডাগ আগের ম্যাচে চোট পেয়ে টুর্নামেন্টেরই বাইরে চলে গিয়েছেন। স্ট্রাইকিং লাইনে রোসি সম্ভবত রোলান্ড সালাইয়ে সঙ্গে অধিনায়ক অ্যাডাম জালাইকে রাখবেন। ব্রিস্টল সিটির অ্যাডাম নাজি তাঁর ৫০ তম ম্যাচ খেলতে চলেছেন দেশের হয়ে। ফ্রান্সের বেঞ্জামিন পাভার্ড সুস্থ বলেই খবর। তবু লিও ডুবোইসকে তৈরি রাখা হচ্ছে।

আগামী বুধবার পর্তুগালের বিপক্ষে খেলতে নামার আগেই এনগোলো কান্তে-আঁতোয়া গ্রিজম্যানরা নক আউট পর্যায় নিশ্চিত করে ফেলতে চাইবেন এই ম্যাচেই। এই ম্যাচে হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে কোনও গোল না খেলে ফ্রান্স ২০০৭ সালের পর টানা ৬ ম্যাচে ক্লিন শিট রাখতে সক্ষম হবে। রাবার্তো মানচিনির ইতালিই ইউরোপে একমাত্র দল যারা এই বছর ক্লিন শিট রাখার ব্যাপারে তাদের থেকে এগিয়ে। ফ্রান্স-হাঙ্গেরি শেষবার মুখোমুখি হয় ২০০৫ সালে এক প্রীতি ম্যাচে। সেবার ২-১ গোলে জয়ী ছিল ফ্রান্সই।

এবারও শক্তি এবং সাম্প্রতিক পারফরমেন্সের বিচারে অন্তত কয়েক যোজন এগিয়ে ফ্রান্স। তবু অঘটনও তো ফুটবল মাঠে ঘটে!