বাংলা থেকে মোদির মন্ত্রীসভায় কে, জল্পনা শুরু

1176

প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি : ২০১৪-তে বাবুল সুপ্রিয়, এসএস আলুওয়ালিয়া। ২০১৯-এ এলেন দেবশ্রী চৌধুরী। বাবুল থেকে যান অপরিবর্তিত। এবার ২০২১-এ বাংলা থেকে কে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। সূত্রের খবর, খুব বড় মাপের অঘটন না ঘটলে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই ফের রদবদল হতে চলেছে মোদির মন্ত্রীসভায়। দলীয় সূত্র অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি অথবা ১৫ জানুয়ারির পর মন্ত্রীসভায় রদবদল নিয়ে বসবে বিজেপি। এও জানা গিয়েছে ডিসেম্বর ও জানুয়ারির নির্ধারিত সময়সীমার মাঝামাঝি মলমাস বলে সেই সময় কোনও বদল আনবে না বিজেপির কেন্দ্রীয় শিবির। যদি আনতে হয় তা এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে। এই মুহূর্তে বিহার নির্বাচন সহ শেষ হয়েছে অন্য ১০ রাজ্যের উপনির্বাচন। সব জায়গাতে ভালো ফল করেছে বিজেপি। এই সময়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় রদবদল আনা জরুরি ও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন মোদি-শা।

রদবদলে প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হবে বাংলাকেই। কারণ একটাই, আসন্ন বাংলা বিধানসভার নির্বাচন। ডিসেম্বর শেষ হলেই জোরকদমে শুরু হবে নির্বাচনি প্রচার প্রসার। তার আগে এই মন্ত্রীসভার সম্প্রসারণ করে ভোটের আবহে পশ্চিমবঙ্গকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কথা ভাবছে বিজেপি। তবে রাজ্য বিজেপি থেকে কারা পাবেন নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় ঠাঁই, সেই নিয়ে জল্পনা পূর্ণ মাত্রায় শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে উঠে এসেছে দুটি পৃথক সমীকরণ। তার একটি পর্বে এগিয়ে আছেন হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ও কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক। অন্যদিকে এগিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও বাঁকুড়ার সাংসদ ডঃ সুভাষ সরকার। কোন পর্বটিকে জায়গা দেওয়া হবে মোদির মন্ত্রীসভায় তা নিয়ে চলছে চুলচেরা হিসেব-নিকেশ। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় জায়গা পেতে পারেন রাজ্যসভার সাংসদ জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া।

- Advertisement -

পশ্চিমবঙ্গে দলীয় শক্তি বাড়ানোর জন্য যে রাজ্যের সাংসদদের আরও বেশি করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে, সেবিষয়ে বিজেপির অন্দরমহলে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছে। এবার ভোটের আগে সেই নীতি প্রয়োগ করা হবে বলে দাবি করা হয়েছে বিজেপি সূত্রে। এক্ষেত্রে কোচবিহার ও হুগলির দুই দাপুটে বিজেপি সাংসদকেই সম্ভাব্য কেন্দ্রীয়মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রাখছেন পর্যবেক্ষকরা। অন্যদিকে বাঁকুড়া থেকে কেন্দ্রীয় মসনদে জায়গা বানানো সাংসদ ও সুচিকিৎসক সুভাষ সরকারকেও পছন্দ কেন্দ্রীয় শিবিরের একাংশের। দীর্ঘদিনের দলের হাল ধরে থাকা, বাগ্মী ও লড়াকু রাজ্যসভা সাংসদ-অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ও এই পদের দাবিদার অনেক দিন ধরে। তবু শেষমেশ হয়তো মোদির মন্ত্রীসভায় জায়গা পাবেন যেকোনও দুজনই। এই বিষয়ে কে বা কারা শেষ হাসি হাসবেন, এখন তাই দেখার অপেক্ষা। এবিষয়ে সকলেরই কমবেশি একই বক্তব্য  তাদের কাছে এবিষয়ে কোনও তথ্য নেই। তবে দল যা দায়িত্ব দেবে, তাই পালন করতে হবে। সবার লক্ষ্য বাংলায় মজবুত সরকার নিয়ে আসা। কীভাবে এই সরকার নিয়ে আসা যায়, তা স্থির করবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তার জন্য যেকোনও দায়িত্ব পালন করতে তারা রাজি।

ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে শুরু হয়ে যাবে পৌষ মাস। মল মাসে সাধারণত কোনও শুভ কাজে হাত দেয় না বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। জানুয়ারির ১৫ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করলে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে গুরুত্বপূর্ণ এক মাস হাতছাড়া করা হবে, তাও কাঙ্ক্ষিত নয়। সব দিক ভেবেই ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার সম্প্রসারণের কথা ভাবা হচ্ছে, দাবি করা হয়েছে বিজেপি সূত্রে। কিছুদিন আগে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরেশ অঙ্গারি ও রাম বিলাস পাসোয়ানের মৃত্যু তথা অকালি দলনেত্রী হরসিমরত কউর বাদলের পদত্যাগের পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় তিনটি আসন খালি হয়েছে। এছাড়াও প্রকাশ জাভড়েকার, পীযূষ গোয়েল ও নরেন্দ্র সিং তোমরের হাতে রয়েছে অনেকগুলি মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই দায়িত্বভারই বণ্টন করা হবে।