নয়াদিল্লি, ৭ অগাস্টঃ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী তথা বিজেপির বর্ষীয়ান নেত্রী সুষমা স্বরাজ। মঙ্গলবার রাতে দিল্লির এইমস হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। অসুস্থতার জন্য এবার মন্ত্রীসভা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তবে কেন্দ্রীয় রাজনীতি থেকে সরে যাননি। বিদেশমন্ত্রী থাকাকালীন নিজেকে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন এই বর্ষীয়ান নেত্রী। বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে কোনো ভারতীয় সমস্যায় পড়লে ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। নম্র স্বভাবের জন্য বিরোধী দলগুলির কাছে বিজেপির অন্যতম গ্রহণযোগ্য মুখ ছিলেন সুষমা। একনজরে দেখে নেওয়া যাক তাঁর জীবনের নানা দিক…

প্রথম জীবনঃ

১৯৫২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আম্বালা ক্যান্টনমেন্টে সুষমা স্বরাজের জন্ম। সেখানকার ধর্ম কলেজে তাঁর পড়াশোনা। এরপর তিনি পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। বাবা হরদেব শর্মা ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের একজন বিশিষ্ট সদস্য। মায়ের নাম ছিল লক্ষ্মী দেবী।

রাজনৈতিক জীবনঃ

১৯৭০ সালে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের হাত ধরে সুষমা স্বরাজের রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ। ১৯৭৩ সালে আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিমকোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করেন তিনি। তিনি সাতবার লোকসভায় এবং তিনবার বিধানসভায় নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৭৭ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিনি হরিয়ানা মন্ত্রীসভার সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯৮ সালে তিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০০৩ থেকে ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত তিনি অটলবিহারী বাজপেয়ির সরকারে স্বাস্থ্য ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। এরপর ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মধ্যপ্রদেশের বিদিশা কেন্দ্র থেকে তিনি নির্বাচিত হন। তারপর তিনি লোকসভায় বিরোধী দলনেত্রী নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত তিনি বিরোধী দলনেত্রীর পদেই ছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিদিশা কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বারের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় তাঁকে বিদেশমন্ত্রী করা হয়। ইন্দিরা গান্ধির পর তিনিই ছিলেন দ্বিতীয় মহিলা রাজনীতিবিদ যিনি বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একসময় তাঁকে ভারতের ‘সব থেকে প্রিয় রাজনীতিবিদ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল।