রাতারাতি অরেঞ্জ থেকে রেড জোনে ঢুকে আতঙ্ক জলপাইগুড়িতে

547

সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি: সরকারি রিপোর্ট বলছে জেলায় কোন করোনায় আক্রান্ত পজেটিভ কেস নেই। বর্তমান জেলার যা পরিস্থিতি, তাতে মানুষ ভেবেছিলেন আর এক-দু’দিনের মধ্যে অরেঞ্জ জোন থেকে গ্রিন জোনের পথে হাটবে জলপাইগুড়ি জেলা। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে রাতারাতি অরেঞ্জ থেকে রেড জোনে চলে যাওয়া আতঙ্কিত জেলার মানুষ।

যদিও জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, রেড জোন সম্পর্কিত কোন তথ্য বা নির্দেশিকা এখনো রাজ্য থেকে জেলাকে জানানো হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জলপাইগুড়ি রেড জোনের খবর প্রচারিত হতে ব্যাবসায়ী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কেন্দ্র না রাজ্য সরকার, কোন ঘোষণাকে সঠিক ভাবে ধরবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে শহরবাসীর মধ্যে।

- Advertisement -

কালিম্পংয়ের ওই করোনা আক্রান্ত মহিলার মৃত্যু এবং তার জলপাইগুড়ি জেলার জ্যোতিনগরে নিকট আত্মীয়দের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরে জলপাইগুড়িকে অরেঞ্জ জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। জ্যোতি নগরের ওই পরিবার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছে বেশ কয়েকদিন আগেই। ওই ঘটনার ২৮ দিনের সময়সীমা অতিক্রান্ত হবে আর কয়েকদিনের মধ্যে।

একটি সূত্রে জানা যাচ্ছিল, ওই ২৮ দিনের সময়সীমা পার হলেই জলপাইগুড়ি জেলা অরেঞ্জ জোন থেকে গ্রিন জোন হবে৷ এই আশায় কিছুটা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছিলেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই ভেবেছিলেন গ্রিন জোন ঘোষণা হলে কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হতে পারে সার্বিক পরিস্থিতি। দোকানপাট খোলা থেকে শুরু করে জেলার ভেতর যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় পেতে পারেন মানুষ।

কিন্তু রাতারাতি অরেঞ্জ জোন থেকে রেড জোনে চলে যাওয়ার ঘোষণায় ফের নতুন করে আতঙ্কিত জেলার মানুষ। জানা গিয়েছে, এদিন সকাল থেকে একটি জলপাইগুড়ি রেড জোন সংক্রান্ত একটি বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। এরপর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হতে শুরু করে জলপাইগুড়িকে রেড জোনে ঘোষণার খবর। সকালের দিকে যেটুকু ভিড় দেখা গিয়েছিল বাজার হাটগুলোতে৷ রেড জোনের খবর ঘোষিত হতে দ্রুত ফাঁকা হয়ে যেতে থেকে রাস্তাঘাট। কিসের ভিত্তিতে জলপাইগুড়িকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে, তা নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং ফেসবুকে প্রশ্ন তোলেন সাধারণ মানুষ।

শহরের আনন্দচন্দ্র কলেজের অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্ত্তী বলেন, যেখানে গতকাল পর্যন্ত রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে জেলায় নতুন করে কোন করোনায় আক্রান্তের খবর নেই। সেই জায়গায় কিসের ভিত্তিতে জলপাইগুড়িকে রেড জোন ঘোষণা করা হল তা বুঝতে পারছি না। রেড জোন ঘোষণার বিষয়টি পরিস্কার করে জানানো দরকার। এমনকি সত্যি যদি রেড জোন ঘোষণা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে একজন সাধারণ মানুষের কি করণীয় তাও সরকারকে জানানো উচিৎ। রেড জোন ঘোষণা হয়ে থাকলে আমরা সাধারণ মানুষ খুবই আতঙ্কিত।

জলপাইগুড়ি ডিস্ট্রিক চেম্বার অফ কমার্সের কার্যকরী সভাপতি বিকাশ দাস বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছিলাম এক-দু’দিনের মধ্যে জলপাইগুড়ি অরেঞ্জ জোন থেকে গ্রিন জোনে যাবে। সেক্ষেত্রে দোকান বাজার খোলার ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় মিলতো বলে আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু কিসের ভিত্তিতে কেন রেড জোন ঘোষণা করা হল তা সাধারণ মানুষের সামনে পরিস্কার হওয়া দরকার বলে মনে করি। জলপাইগুড়ি জেলাশাসক অভিষেক তিওয়ারি জানিয়েছেন, জোন বিভক্ত নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে জেলার কাছে এখনো কোন নির্দেশিকা আসেনি।