হারের হ্যাটট্রিকের ভয় থেকে সোজা প্রতিমন্ত্রী পরেশ

108

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ : এভাবেও ফিরে আসা যায়, দেখিয়ে দিলেন পরেশ অধিকারী। এমনটাই বলছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে পরেশবাবুর পরিবারের সদস্যরাও। হারের হ্যাটট্রিক হবে। কী দরকার ছিল ভোটে দাঁড়ানোর। এসব কথা হজম করতে হয়েছে বাড়ির লোকজনকে। বাম আমলের মন্ত্রী ছিলেন। পরে পরিবর্তনের রাজনীতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ঘাসফুলকেই বেছে নিয়েছেন। তৃণমূলের টিকিটেই আবার পরাজয়ের মুখও দেখতে হয়েছে। তারপর যে সিধে মন্ত্রী হয়ে রাজনৈতিক সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দেবেন পরেশ, এমনটাই অনেকেই ভাবতে পারেননি।

তবে ভাবতে পেরেছিলেন পরেশবাবুর স্ত্রী মীরা অধিকারী। সোমবার মমতার তৃতীয় দফার মন্ত্রীসভায় স্বামীর নাম ঘোষণা হওয়ার পর মেখলিগঞ্জ শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ডে, নিজের বাড়িতে বসে এমনটাই বললেন মীরাদেবী। তিনি বলেন, ফল ঘোষণার আগে এই কথাগুলি শুনতে যতটা খারাপ লেগেছিল, তার চাইতে অনেক বেশি ভালো লেগেছে ভোটে জেতার পর। তৃণমূল নেত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই তাকে মন্ত্রীও করেছেন। এতে আরও বেশি আনন্দ হচ্ছে। গত বিধানসভা এবং লোকসভা ভোটে পরপর দুবার হেরে গেলেও তাঁর কাছে হারজিত কোনও বিষয় নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মূল লক্ষ্য। মন্ত্রী হয়েছেন। এবার মানুষের জন্য কাজ করতে আরও বেশি সুবিধা হবে। বাবার জয়ে দারুণ খুশি অঙ্কিতা অধিকারীও। তিনি বলেন, বাবা জয়ী হয়ে মন্ত্রীও হলেন, এতে খুবই ভালো লাগছে। এজন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

- Advertisement -

কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে ভোটে লড়ে বিধায়ক হয়েছেন পরেশচন্দ্র অধিকারী। তাঁকে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই বাড়ির শুভেচ্ছাবার্তার ঢল নেমেছে। এদিন সকালে তাঁর কিছু অনুগামী বাড়ির সামনে জড়ো হন। তবে করোনা পরিস্থিতিতে আবির খেলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ বা বড়সড়ো জমায়েত করে ঢাকঢোল বাজিয়ে আনন্দ করার ছবি দেখা যায়নি। পরেশবাবু বর্তমানে তাঁর পুত্র হিরকজ্যোতি অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় রয়েছেন। মঙ্গলবার তাঁর মেখলিগঞ্জে পৌঁছোনোর কথা রয়েছে। মন্ত্রী পরেশ অধিকারীকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে রয়েছেন মেখলিগঞ্জের মানুষ।

পরপর দুবার হারের পরেও চুপ করে বসে থাকেননি পরেশবাবু। মানুষের দরজায় দরজায় পৌঁছে মানুষের কাছে থাকার এবং দলের কাজ করার চেষ্টা করে গিয়েছেন। গতবছর করোনা পরিস্থিতিতেও মানুষের পাশে দাঁড়াতে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন তিনি। পরেশের এই ছুটোছুটির সমালোচনাও শোনা গিয়েছে দলের বেশকিছু নেতাদের মুখেই। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পরেশবাবুকে মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থী করার বিষয়টিও মেনে নিতে পারেননি দলের কিছু নেতা। পরেশের এবার হারের হ্যাটট্রিক হবে বলেও আড়ালে আবডালে চর্চা শুরু হয়েছিল। এত কিছুর পরেও পরেশবাবুর জয় দলের অন্দরে সাড়া ফেলে দিয়েছে।