মহাপঞ্চায়েতের মঞ্চ থেকে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার ডাক সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার

166

আসানসোল: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে একটিও ভোট নয়। বিজেপি বাদে যে কোনও দলকে ভোট দেওয়া যেতে পারে। আসানসোলে মহাপঞ্চায়েতের সভামঞ্চ থেকে এমনটাই বার্তা দিলেন সংযুক্ত কিষান মোর্চার নেতারা। তাদের দাবি কেন্দ্রের তিন আইন কৃষি বিরেধী আইন।

রবিবার আসানসোলের এইচএলজি হাসপাতাল মোড় সংলগ্ন উৎসব ময়দানে আসানসোল কিষাণ মহাপঞ্চায়েত আয়োজিত হয়। এই মহাপঞ্চায়েতে সহযোগিতা করেছে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা সেন্ট্রাল গুরুদোয়ারা প্রবন্ধন কমিটি। এদিনের মহাপঞ্চায়েতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উত্তর প্রদেশের আজমগড় থেকে আসা সংযুক্ত কিষান মোর্চার সর্বভারতীয় সহসভাপতি হিমাংশু তেওয়ারি বলেন, ‘বিজেপি তো উত্তর প্রদেশ ও বিহারে আগে থেকেই ক্ষমতায় আছে। সেখানে তারা সোনার রাজ্য করতে পেরেছে কি? তাহলে কিসের সোনার বাংলা? বিজেপি আসলে বাংলাকে উত্তর প্রদেশের মতোন করতে চাইছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ সবচেয়ে বড় মিথ্যেবাদী। এরা গোটা দেশের মানুষকে বোকা বানাচ্ছে ও ভাঁওতা দিচ্ছে। এদের একটাই উদ্দেশ্য দেশের সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়ে, আম্বানি ও আদানিদের হাতে তুলে দেওয়া।’

- Advertisement -

তিনি দাবি করেন, তিন কৃষি আইন শুধু দেশের কৃষকদের বিরোধী নয়, এই আইন দেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে। এসেন্সিয়াল কমোডিটি এ্যাক্ট বা নিত্য প্রয়োজনীয় আইন তুলে দেওয়ার একটাই লক্ষ্য, আম্বানি ও আদানিদের হাত শক্ত করা। যাতে তারা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস মজুত করতে পারে। বাংলায় ভোট আসছে। আমরা বলছি, বিজেপিকে ছাড়া, যাকে খুশি ভোট দিন। এরা কেন বারবার বাংলা বা যেসব রাজ্যে ভোট আসছে, সেখানে কেন যাচ্ছে জানেন? কারণ এইসব রাজ্যের বিজেপির নেতারা কৃষি আইন নিয়ে সাধারণ মানুষদের ভুল বোঝাতে পারছেন না।

সংযুক্ত কিষান মোর্চার সর্বভারতীয় সহসভাপতি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল বাংলা ও পাঞ্জাবের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের। বাংলার মানুষেরা কৃষি আইনের বিরোধিতায় আন্দোলন করা পাঞ্জাবের কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমরা বাংলার সব জায়গায় যেতে পারছি না। আমাদের হয়ে আপনারা গিয়ে বলুন।’

এদিনের মহাপঞ্চায়েতে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীন অধ্যাপক মনজিৎ
সিং, বলবীর সিং রাজোয়াল, গুরুদোয়ারা প্রবন্ধন কমিটির প্রধান তেজেন্দ্রর সিং। তবে এদিন মেধা পাটেকরের আসার কথা থাকলেও আসেননি।