সাতবার প্লাজমা দান করে নজির গড়লেন ফুয়াদ

65

কলকাতা : ভোটের মরশুমেই হঠাৎ করোনার থাবা। তবু হুঁশ ফেরেনি রাজনৈতিক দলগুলির। করোনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মিটিং, মিছিল, সভা, সমাবেশ। তবে এই সবকিছুর থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত তৈরি করছেন বালিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী ফুয়াদ হালিম। যখন জনসভা, সমাবেশ করে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মাঝে তিরস্কৃত হচ্ছেন রাজনীতিকরা, তখন করোনা সংক্রামিতদের প্লাজমা দান করে নজির গড়লেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকারের পুত্র। একবার-দুবার নয়, সাতবার প্লাজমা দান করেছেন সিপিএমের এই চিকিৎসক নেতা।

লকডাউনের শুরু থেকে নিজের হাসপাতালে ৫০ টাকায় ডায়ালিসিস শুরু করে রাজনৈতিক মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন ফুয়াদ। এরপর তিনি করোনা সংক্রামিত হয়েছেন। সেরে ওঠার পর করোনা সংক্রামিতদের চিকিৎসায় নিজের প্লাজমা দান করেছেন। করোনা থেকে সেরে ওঠা রোগীদের প্লাজমা করোনা সংক্রামিতদের চিকিৎসা অন্যতম উপাদান। তাই প্রার্থীপদ ঘোষণা হওয়ার পর প্রচার চলাকালীন এবং প্রচারের শেষ লগ্নেও নিজের সামাজিক দায়িত্ব থেকে সরলেন না ফুয়াদ।

- Advertisement -

নিজের এই সামাজিক কর্তব্য সম্পর্কে কী বলছেন ফুয়াদ নিজে? বালিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থীর দাবি, আমার সামাজিক জীবন ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক জীবন থেকে আলাদা নয়। আমি যে রাজনৈতিক মতাদর্শ মেনে চলি সেই শিক্ষা থেকেই এই সামাজিক কর্তব্যে জড়িয়ে পড়া। তিনি বলেন, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য এবং খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। তা মানুষকে তুলে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র যদি সেই কাজে ব্যর্থ হয় অথবা দায়িত্ব নিতে না চায় তাহলে কাউকে না কাউকে সেই দায়িত্ব পালন করতেই হবে।

তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনি লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্ষীয়ান মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তাঁর সম্পর্কে বার্তা দিতে গিয়ে ফুয়াদ বলেন, উনি বর্ষীয়ান মানুষ। বয়স প্রায় ৮০ ছুঁইছুঁই। তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি থাকবে। তাই তাঁকে অনেক বেশি সাবধানে থাকতে হবে। নির্বাচনের ফল কী হবে তা জানতে ২ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু তার আগে করোনার সময় রাজনৈতিক লড়াই থেকে দূরে সরে সামাজিক দায়িত্ব পালনের মধ্যে দিয়ে ইতিমধ্যে মানুষের মন জিতছেন ফুয়াদ হালিম।