অগ্নিমূল্য জ্বালানি, খরচ বাড়ছে চাষে

121

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা : পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আর পাঁচটা ক্ষেত্রের মতো কৃষিক্ষেত্রেও ভালোভাবে পড়েছে। বেশিরভাগ জমিতেই এখন ট্র‌্যাক্টর দিয়ে চাষ হয়। গত বছরের তুলনায় এবার ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩০-৩৫ টাকা বেড়েছে। গতবার এই সময়ে আমন ধানের ক্ষেত্রে ট্র‌্যাক্টর দিয়ে চাষে প্রতি বিঘায় ৪০০ টাকা লাগত। এবারে সেই খরচ বেড়ে ৫০০-৬০০ টাকা হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় সেচের জলও কৃষকদের কিনতে হচ্ছে। এক্ষেত্রেও প্রতি ঘণ্টায় দ্বিগুণ খরচ লাগছে। এভাবে চাষের খরচ বেড়ে যাওযায় ফালাকাটার কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। গোটা বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি ও সিপিএমের কৃষক সংগঠনগুলি একে অপরের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে।

শহরাঞ্চলের দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত বাদে গোটা ফালাকাটা ব্লক কৃষি অধ্যুষিত এলাকা। কিন্তু গত বছর করোনা পরিস্থিতির পর থেকেই এখানকার কৃষি অর্থনীতি ধাক্কা খাচ্ছে। এবার জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরাও নানাভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কৃষকরা এখন আর আগের মতো গোরু, লাঙল দিয়ে জমি চাষ করেন না। ট্র‌্যাক্টর দিয়ে অধিকাংশ জমিতে চাষ হয়। গোটা ফালাকাটায় প্রায় এক হাজার ট্র‌্যাক্টর রয়েছে। গত বছর তেলের দাম কম থাকায় চাষের খরচও কম লাগত। কিন্তু এবার ধাপে ধাপে তেলের দাম বেড়েই চলেছে। এখন প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৯৩ টাকারও বেশি। তাই ট্র‌্যাক্টর মালিকরা চাষের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছেন। ট্র‌্যাক্টর মালিক দেবেশ বালো বলেন, গত বছর এই সময়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৬০-৬৩ টাকা ছিল। এখন ৯৩ টাকারও বেশি। অন্যান্য সরঞ্জামের দামও বেড়েছে। তাই প্রতি বিঘা চাষ বাবদ এবার ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। একটি সূত্রের খবর, সুযোগ ঝুঝে ট্র‌্যাক্টর মালিকরা কোথাও কোথাও ৬০০ টাকাও নিচ্ছেন। বেশি টাকা দিয়ে অবশ্য মাঝেমধ্যে সময়মতো ট্র‌্যাক্টর পাওয়া যাচ্ছে না।

- Advertisement -

এদিকে, সেভাবে বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক জমিতে জল জমে থাকছে না। কৃষকদের কেউ কেউ এই বর্ষাকালেও সেচের জল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। আর ছোট পাম্পসেটের সাহায্যে এই সেচের জলও ঘণ্টা হিসাবে বিক্রি হচ্ছে। আগে প্রতি ঘণ্টায় ১০০-১৫০ টাকা লাগত। এখন তেলের দাম বেড়ে যাওযায় এক ঘণ্টা সেচের জলের জন্য ২০০-২৫০ টাকা লাগছে। সব মিলে এবার চাষের খরচ দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা খুবই সমস্যায় পড়েছেন। কালীপুরের কৃষক সাধন রায় বলেন, ট্র‌্যাক্টর দিয়ে চাষ করাতে বেশি টাকা লাগছে। আবার সেচের জলও বেশি দরে কিনে নিতে হচ্ছে। ডিজেলের দাম বাড়ায় এবার চাষের খরচ বেশি লাগছে। কৃষ্ণপ্রসাদ বর্মন, স্বপন সরকার, দিবাকর দাস প্রমুখ কৃষকের একই বক্তব্য।

তৃণমূল কিষান ও খেতমজদুর কংগ্রেস এজন্য কেন্দ্রীয় সরকারকেই দায়ী করেছে। সংগঠনের ফালাকাটা ব্লক সভাপতি সুনীল রায় বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতির কারণে পেট্রোপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। এর প্রভাব কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে পড়েছে। কৃষকরা চাষ ও সেচের খরচ জোগাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন। তাই কৃষকদের সংঘবদ্ধ করে মোদি সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করা হবে। বিজেপির কিষান মোর্চার জেলা সভাপতি সুজিত সাহা বলেন, রাজ্য সরকার যদি এতটাই কৃষকদরদি হয় তবে পেট্রোপণ্য বাবদ নিজেদের কর কমাচ্ছে না কেন? তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজার হিসেবে ধার্য হয়। এখন কৃষকদের চাষের খরচ বেশি লাগায় রাজ্য সরকারই দায়ী। সমস্যার জন্য সিপিএম কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, উভয়কেই দোষারোপ করেছে। সারা ভারত কৃষকসভার জেলা সদস্য ফালাকাটার ক্ষিতীশচন্দ্র রায় বলেন, কোনও সরকারই কৃষকদের দুর্দশা নিয়ে ভাবে না। তেলের দাম বাড়ায় এবার চাষাবাদের খরচ কয়েকগুণ বেশি লাগছে। তাই উভয় সরকারের উচিত তেলের দামে লাগাম টানা।